দেশনিউজ২৪ ডটকম: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ-আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিং ঝড় এখন তুঙ্গে। অভিযুক্ত সনু যগেন্দ্র জালান ওরফে মালাদ পুলিশের ক্রাইম বেঞ্চে একটি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য এক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারকে ১০ কোটি রুপি দেয়ার কথা স্বীকার করেছে।
এছাড়া কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটারও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত বলে সনু পুলিশকে তথ্য দিয়েছে বলে দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়।
বৃহস্পতিবার মুম্বাই পুলিশ সনুর সাথে দেবেন্দ্র কোঠরি ওরফে বাইয্যাজিকেও গ্রেপ্তার করে। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বাজিকর চক্রের সদস্য বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
মুম্বাই পুলিশের প্রপার্টি সেল কান্দিভলি এলাকার লৌক্ষ্ণদৌলায় একটি ভবনে অভিযান চালায় এবং ক্রিকেট থেকে অসুদুপায়ে অর্থ উপার্জনকারী বড় ধরনের এই চক্রটি ধরতে সক্ষম হয়।
ওই ভবন থেকে পুলিশ কোঠরি ও জালান ছাড়াও আরো দুই জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, ভয়েস রেকর্ডার, কম্পিউটার, ২৫টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫ লাখ ১৮ হাজার রুপি উদ্ধার করে। আটককৃতদের জুয়া দমন আইনে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়া হয়।
সূত্র জানায়, কোঠরি ও সনু জালান জুয়া নেটওয়ার্কে প্রায় ৫০০ কোটি রুপি লেনদেন হয়। এটি পাকিস্তানভিত্তিক ছোট শাকিলের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করে।
এর আগে আরেকটি জুয়ার ঘটনায় সনু জালানকে গত বছর সোশাল সার্ভিস ব্রাঞ্চ গ্রেপ্তার করে। কোঠরি একই মামলার আসামি হলেও তাকে ওইসময় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
নতুন মামলায় জানা গেছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সৌদি আরবে সনু ও জালানের খরিদ্দার ও পেশাদার জুয়াড়ি রয়েছে। এছাড়া ভারতের দিল্লি, কলকাতা, রাজস্থান, গুজরাট ও হারিয়ানায় তাদের সহযোগী রয়েছে।
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ডেভেন ভার্টি বলেন, ‘আটককৃতরা আইপিএলের বিভিন্ন ম্যাচ নিয়ে জুয়ার আয়োজন করেছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। চক্রটির কাছে জুয়া আয়োজনের অত্যাধুনিক সব সরঞ্জাম রয়েছে।’
এরআগে গ্রেপ্তার হওয়া সনু পুলিশকে জানায়, তাকে যাতে গ্রেপ্তার করা না হয় এজন্য একজন আইপিএস কর্মকর্তাকে এক কোটি রুপি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হলে রাজ্যের দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে অভিযোগ দায়েরের হুমকি দেয় সনু। তবে আরেক জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সে নিবৃত্ত হয়।
