18 May 2013 , Saturday
Bangla Font Download
সংবাদ শিরোনামঃ

You Are Here: Home » সর্বশেষ সংবাদ » সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল চালুর দাবিতে মিল গেটে গণজামায়েত অনুষ্ঠিত

দেশনিউজ২৪ ডটকমঃ অবিলম্বে বন্ধকৃত দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস্ চালুর দাবিতে বুধবার বিকালে শহরের অদূরে তালতলাস্থ মিলস্ গেট চত্বরে এক শ্রমিক গণজামায়েত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় শ্রমিক লীগ সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস্,(সুটেমি) সাতক্ষীরা শাখা আয়োজিত এই শ্রমিক গণজামায়াতে প্রধান অথিতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ছাইফুল করিম সাবু।

সুটেমি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ তহিদুজ্জামান তোতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক লীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এম এ খালেক, সুটেমি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ সরদার, সাবেক সাধারন সম্পাদক শেখ হারুন-উর রশিদ, সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন খোকন, শ্রমিক নেতা মোঃ পিকলুর রহমান, মোঃ ইদ্রিস আলী, নিতাই ব্যানার্জী, ডাঃ ভবেশ কুমার রায়, প্রশান্ত কুমার সরকার, মোঃ জাকির হোসেন প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছে মিলের ৮৫০ জন শ্রমিক। বিকল্প কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় বেকার হয়ে যাওয়া এসব শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। অর্থাভাবে অনেকের ছেলে মেয়েদের লেখা পড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তারা বলেন বন্ধ হলেও বর্তমানে  মিলের স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে ২০জন। তাদের বেতন ভাতা বাবদ প্রতি মাসে সরকারকে দিতে হচ্ছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মিলটি বন্ধ থাকায় প্রতিমাসে মিনিমাম বিদ্যুৎ বিল হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার। ফলে মিলটি বন্ধ থাকলেও প্রতি মাসে সরকারকে ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। বিটিএমসি যদি প্রতিমাসে এই টাকা মিলের জন্য ভূর্তিকি দেয় তাহলে বেল প্রতি ৫৯০০ টাকা রেটে মিল চালানো সম্ভব বলে বক্তারা দাবি করেন। তারা বন্ধ কারখানা চালুর প্রধান মন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন চেয়ে অবিলম্বে সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলটি চালু করার জোর দাবি জানান।

প্রসঙ্গতঃ ১৯৮০ সালে তৎকালীন বস্ত্রমন্ত্রী এড. মুনসুর আলী খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পূর্ব পাশে ৩৩ একর জমির উপর মিলটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালের ৬ অক্টোবর বাণীজ্যিকভাবে মিলটিতে উৎপাদন শুরু হয়। সেই থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত মিলটি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। এরপর সূতার মূল্যহ্রাস, কাঁচা তুলার অভাব, শ্রমিক নেতাদের দৌরাত্ব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা কারণে মিলটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে থাকে এবং চরম আর্থিক সংকটের এক পর্যায় কারনে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর  ১৯৯৭ সালের জুলাই মাস থেকে বিটিএমসি পুনরায় সার্ভিস চার্জএর ভিত্তিতে মিলটি চালু করে। এরপর ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে মিলটি লোকসানের অযুহাতে ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুই বছর বন্ধ থাকার পর ২০১০ সালের ১ আগস্ট সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল ফের চালু করা হয়। এতে মিলে ৮৫০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। নারায়নগঞ্জের কসমোপলিটন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যাদেশ পায়। সরকারের সাথে দুই বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার তিনমাস আগে প্রতিষ্ঠানটি মিল চালু রাখতে অপারগতা প্রকাশ করে বিটিএমসি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। এরপর ফের টেন্ডার আহবান করা হয়। প্রথম ২ দফায় টেন্ডারে কোন সাড়া মেলেনি। তৃতীয় দফায় টেন্ডার আহবান করলে নারায়ণগঞ্জের মেসার্স জি আর ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি কোম্পানি তাতে সাড়া দেয় বটে, কিন্তু আগের কোম্পানির চেয়ে প্রতি বেল সুতায় প্রায় দেড় হাজার টাকা কম রেটে টেন্ডার জমা দেয় কোম্পানিটি। বিটিএমসি মের্সাস জি আর ইন্টারন্যাশনাল কোম্পারি দরপত্রে সাড়া না দেয়ায় বন্ধ হতে বসে  দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল। একপর্যায় গত ২০১১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মিলটি শেষ বারের মত বন্ধ হয়ে যায়।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : মনিরুল ইসলাম, যোগাযোগ : ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ডিআইটি রোড, ঢাকা-১২১৯, মেইল : monirjjd@yahoo.com, Mob.01819067529,

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD