26 September 2017 , Tuesday
Bangla Font Download

You Are Here: Home » অর্থনীতি, সর্বশেষ সংবাদ » জাহাজ শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেতন ভাতার দাবিতে ২য় দিনেও চলছে লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকদের একাংশের ধর্মঘট। যার ফলে শনিবার থেকেই বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে কোনো পণ্য খালাস হয়নি। একই সাথে কর্ণফুলীর ১৬ টি ঘাটেও বন্ধ ছিল পণ্য উঠানামার কাজও। লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের এ ধর্মঘটে উদ্বিগ্ন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এদিকে যৌক্তিক দাবিতে অযৌক্তিক ধর্মঘটের কারণে দেশের অর্থনীতির ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাহাজ মালিক সমিতির নির্বাচনের আগে ডাকা এই ধর্মঘটের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

জানা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারিতে লাইটার জাহান মালিক সমিতির নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের আন্দোলন কর্মসূচী স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছিল। নির্বাচনের আগে বর্তমান কমিটির পক্ষে টেকনিক্যাল কারণে শ্রমিকদের মজুরি বাস্তবায়ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। কিন্তু লাইটার জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়ন সেই বাস্তবাতা মাথায় না রেখে শনিবার থেকে দেশজুড়ে ধর্মঘট শুরু করে দেয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের লাইটার জাহাজ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি হাজী শফিক আহমেদ বলেন, জাহাজ মালিকদের পক্ষ থেকে সরকারের ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি দেয়া হবে বলে চিঠিও দেয়া হয়েছে। এখন শুধু বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। কিন্তু নির্বাচনের প্রাক্কালে এই অহেতু ধর্মঘটের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। এতে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের বলেন, মালিক সমিতির নির্বাচনের কারণে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করে রেখেছি। কিন্তু অপর একটি বেআইনিভাবে ধর্মঘট পালন করছে এবং আমাদের সংগঠনের শ্রমিকদের কাজ করতে বাধা দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় দেড় হাজার লাইটার জাহাজ চলাচল করে। এসব জাহাজের কোনোটি বহির্নোঙ্গর থেকে পণ্য খালাস করে নিয়ে আসে। আবার কোনোটি চট্টগ্রাম থেকে নৌ পথে পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। এছাড়াও সারাদেশে প্রায় ৬ হাজার জাহাজ চলাচল করে থাকে। লাইটার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে বছরে প্রায় চার কোটি মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে।

এদিকে লাইটার জাহাজ ধর্মঘট থাকলে বহির্নোঙ্গর কোনো পণ্য খালাস হবে না। এতে ওই জাহাজগুলোকে অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘদিন যাবৎ। যার ফলে বাড়বে অতিরিক্ত জাহাজের জট। আর জট বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত একদিনের জন্য জরিমানা গুণতে হবে ৮ থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

লাইটার জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদত আহমেদ বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর সরকারের ঘোষণার পর গেজেট প্রকাশিত হয় ৫ অক্টোবর। সেই গেজেট অনুযায়ী মালিকরা জানুয়ারি থেকে পণ্যেও ভাড়া বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি বাস্তবায়ন করেনি। এ জন্য আমরা কিছুদিন ধরে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে এলেও তারা এতোদিন কার্যকর না করাতে গতকল (শনিবার) থেকে আমরা ধর্মঘটে গেলাম।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর মজুরি ইস্যুতে প্রায় তিন দফা ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে এপ্রিলের ধর্মঘট অনেক দিন থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বন্দরের পণ্য পরিবহন কার্যক্রম।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

উপদেষ্টা : মাসুদ রানা, কাজী আকরাম হোসেন, খন্দকার সাঈদ আহমেদ, প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : রফিক আহমেদ মুফদি, প্রধান বার্তা সম্পাদক : মহসিন হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি : মোস্তাক হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার: জুটন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জাকির হোসেন। যোগাযোগ: ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রুম নম্বর ১২০৪, মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ মোড়, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮১৯-০৬৭৫২৯, ০১৭১১-৭৮৩৮৬৮, ই-মেইল: monirjjd@yahoo.com, mohsindesh@gmail.com

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD