দেশনিউজ২৪ ডটকমঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের ভিসি ও প্রো-ভিসির অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন বিব্রত করতেই স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষকরাই সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাধা সৃষ্টি করেছেন। এখন তারাই বিবেচনা করবেন কীভাবে তা দূর করবেন।
মঙ্গলবার আন্দোলনরত শিক্ষকরা ঘোষণা দেন, আগামী রোববারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ওইদিন বিকেলে তারা গণপদত্যাগ করবেন। কিন্তু পরদিন শিক্ষামন্ত্রী তাদের এ ঘোষণা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করলে তারা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেন।
তবে দাবি পূরণ না হলে রোববারের গণপদত্যাগের ঘোষণা বহাল থাকবে বলেও জানান আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা গণপদত্যাগ করলে বুয়েট কীভাবে চলবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেখা যাক না কি করে চলে।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা তাকে বিব্রত করার জন্যই আন্দোলন কর্মসূচি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।
সরকার বুয়েট সংকট নিরসনে আপ্রাণ চেষ্টা করছে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার প্রতি তারা সম্মান দেখিয়ে দুই দিন কর্মসূচি বিরতি দিয়েছেন। এ সম্মান দেখানোর মাধ্যমে দেশবাসী বিভ্রান্ত হবে। তাই আপনাদের (সাংবাদিক) ডেকেছি।
তিনি বলেন, আমারও ৫২ বছরের আন্দোলনের অভিজ্ঞতার রয়েছে। কর্মসূচি স্থগিত করে তারা মূলত একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন। এর দ্বারা দেশবাসী বিভ্রান্ত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে বুয়েটের সাবেক ভিসি ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে আমরা বৈঠক করলাম। কিন্তু তারা আমাদের বৈঠককে প্রত্যাখান করে আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিলেন।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারা আমাকে বোকা ভাবতে পারেন, কিন্তু দেশবাসী তো আর বোকা নয়। গণপদত্যাগ করার চেয়ে আর চরম কি হতে পারে? বিশ্ববিদ্যালয় অচল হবে, ধ্বংস হয়ে যাবে। এর চেয়ে চরম পরিস্থিতি আর কি হতে পারে?
এর আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে সরিয়ে দেয়া হলেও বুয়েটের ভিসির বিষয়ে দীর্ঘ দিনেও কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি- জানতে চাইলে নাহিদ বলেন, বুয়েটের পরিস্থিতি ভিন্ন। ভিন্ন পরিস্থিতিতে, ভিন্ন জায়গায়, ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এ সময় সঙ্কট সমাধানে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা বারবার জানতে চাইলেও মন্ত্রী এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই সভা কক্ষ থেকে বের হয়ে যান তিনি।
প্রসঙ্গত, বুয়েটের ভিসি, প্রো-ভিসির পদত্যাগ এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তের দাবিতে গত ৭ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষক সমিতির নেতা ও শিক্ষার্থীরা।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে গত ৪ মে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ৮ জুলাই আবারো আন্দোলনে নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে রোজা ও ঈদের ছুটি এক মাস এগিয়ে এনে ভিসি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম ১০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন।
এতে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে গত ১১ জুলাই একযোগে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে থাকা ২৪ শিক্ষক।
