14 August 2018 , Tuesday
Bangla Font Download

You Are Here: Home » অর্থনীতি » নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না চালের বাজার

ডেস্ক রিপোর্ট: রমজানের আগেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে নিত্যপণ্যের বাজার। আর এখন ঈদ আসতে বাকি মাত্র ৯ দিন। এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে চালের বাজার। তবে বেশ কিছু দিন আগেই চালের দাম ‘পাগলা ঘোড়া’র মতো ছুটতে থাকে। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না অস্থির এই চালের বাজার। ৪৬ টাকার কমে কোথাও চাল মিলছে না। কোথাও কোথাও ৪৮ টাকা। ঈদের আগমুহূর্তে চালের দাম এভাবেই বাড়ায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দিন গেলে যা মজুরি পান তা দিয়ে তিন বেলা পেট পুরে খেতে পারাটাও এখন দুষ্কর তাদের পক্ষে। শুধু মোটা চাল নয়, সব ধরনের চালের দাম গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।

মমিন নামে বাবুবাজারের এক ভ্যানচালক জানান, ‘বাজারে সবচেয়ে কম দামি ১ কেজি মোটা চাল কিনতে এখন লাগে ৪৮ টাকা। কখনই এত দামে চাল কিনতে হয়নি। দিনে খেপ (কাজ) মেরে আমরা পাই ৩০০-৪০০ টাকা। এ টাকা থেকে যদি চাউল কিনতে ২০০ টাকা যায়, তাহলে আর থাকে কী?’ এ পরিস্থিতিতে ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বৃদ্ধি পাওয়া চালের দামের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার চিত্র দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। জরুরি অবস্থার ওই সময় মোটা চালের প্রতি কেজির দাম ছিল ৪০ টাকা। সরু চাল বিক্রি হতো ৫৬ টাকায়। তা ছাড়িয়ে এখন বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায়। সরু চাল ৬০ টাকার বেশি হওয়ায় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরে থাকা সিন্ডিকেটই নিয়ন্ত্রণ করছে চালের বাজার। মিল মালিক ও আড়তদাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। মুনাফালোভী অসাধু এই ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় ম্লান হয়ে যাচ্ছে সরকারের অর্জন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কয়েক বছর বাম্পার ফলনের কারণে ওই সময় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। কিন্তু কয়েক মাস ধরেই সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সংকটে চালের বাজার আবারও অস্থির হয়ে পড়ে। আর সরকারের নীরব ভূমিকার ফলে দাম বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ থাকায় বেশি পরিমাণে চাল আমদানি করছেন না ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সম্মানীয় ফেলো এম আসাদুজ্জামান জানান, ‘মনে হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের সেই খাদ্য সংকটের মুখে পড়ছি আমরা। ’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে চালের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় ২০০৭-০৮ সালে দেশের বাজারে দাম বেড়েছিল। আর এ বছর হাওরে আগাম বন্যায় বোরো ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ছাড়া প্রায় সব দেশেই চাল উৎপাদন কমেছে। চীনে কমেছে ১৪-১৫ শতাংশ, ভিয়েতনাম ও ভারতেও উৎপাদন কমেছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। অথচ সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন। ’

সরকারি হিসাবমতে, এক বছরে মোটা চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ। এটি শুধু গত এক মাসেই বেড়েছে ৮ শতাংশের বেশি। সরু চাল এক বছরে বেড়েছে ২০ শতাংশ। দেশে চালের বড় পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার বাবুবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ভালো মানের মোটা চাল ৪৬-৪৭ টাকা প্রতি কেজি। নিম্নমানের মোটা চাল ৪৩-৪৬ টাকা। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সরু চাল ৫৩-৬০ টাকা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজার, মহাখালী, শেওড়াপাড়া ও রামপুরা বাজারে চাল বিক্রি হচ্ছে বাবুবাজারের চেয়ে কেজিতে ৩-৪ টাকা বেশিতে। বাবুবাজারের মশিউর নামে এক চাল ব্যবসায়ী জানান, মিল মালিকরা ধান মজুদ করে বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। স্থানীয় পর্যায়ের অটো রাইস মিল ব্যবসায়ীরা সারা দেশের চাল নিয়ন্ত্রণ করছেন। যে কারণে সরকার চালের মূল্য স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে পারছে না বলে জানান শেখ রাইস এজেন্সির সোলায়মান শেখ নামের আরেক ব্যবসায়ী। মনির হোসেন নামে একজন বলেন, একদিকে ধানের সংকট, অন্যদিকে ধানের ওপর মিল মালিকদের নিয়ন্ত্রণ এবং পুঁজিপতিদের মজুদের কারণে চালের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকার কোনো উদ্যোগ না নিলে সংকট আরও বাড়বে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট (এফপিএমইউ) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ জুন সরকারি গুদামগুলোয় চাল মজুদ ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ১৯০ মেট্রিক টন। ২ মে বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরুর পর ১১ জুন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৫৩২ টন সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়।

গতকালের নিত্যপণ্যের বাজার : টানা ঝড়-বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীর বাজারগুলোয় গতকাল সবজির দাম ছিল বেশ চড়া। সব ধরনের সবজির পাশাপাশি অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত। মাছ-মাংস, ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির দাম বেড়েছে কেজি প্রতিতে ৫ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা কম থাকায় ভিন্ন চিত্র ছিল রসুনের দামে। মহাখালী, কারওয়ান বাজার ও মিরপুর শেওড়াপাড়া কাঁচাবাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। বাজারে বেগুন বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৭০-৮০, কাঁচা মরিচ ৭০-৮০, শসা ৩৫, সাদা আলু ১৭-২৩, করলা ৫০-৫৫, টমেটো ৫০-৬০, ধুন্দল ও ঝিঙা ৪০-৪৫, পেঁপে ৩০, বরবটি ৪০-৫০, ঢেঁড়স ও কচুর লতি ৪০ এবং লেবু প্রতি হালি ৩০, মিষ্টিকুমড়ার পিচ ১৫-২০ ও কাঁচকলা প্রতি হালি ২৪-৩২ টাকা। প্রতি আঁটি লাল শাক, পালং শাক বিক্রি হয় ২০, পুঁই ও ডাঁটা শাক ২০-৩০ টাকা। দেশি পিয়াজ প্রতি কেজি ৩০-৩২, ভারতীয় পিয়াজ ২৫-২৮ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৫০০, খাসির মাংস ৭৫০, ব্রয়লার মুরগি ১৫৫-১৬০ টাকা। কক মুরগি প্রতি পিস ২৪০-২৬০ আর দেশি মুরগি ৩৫০-৪৫০ টাকা। সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

উপদেষ্টা : মাসুদ রানা, কাজী আকরাম হোসেন, খন্দকার সাঈদ আহমেদ, প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : রফিক আহমেদ মুফদি, বিশেষ প্রতিনিধি : মোস্তাক হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার: হানিফ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জাকির হোসেন। যোগাযোগ: ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রুম নম্বর ১২০৪, মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ মোড়, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮১৯-০৬৭৫২৯, ই-মেইল: monirjjd@yahoo.com,

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD