24 January 2018 , Wednesday
Bangla Font Download

You Are Here: Home » মুক্তকলম, সর্বশেষ সংবাদ » ড. মাহফুজুর রহমানের সঙ্গীতানুষ্ঠান ও প্রতিক্রিয়া

মনিরুল ইসলাম:  বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা এবং এটিএন নিউজের মালিক ড. মাহফুজুর রহমান ঈদের তৃতীয় দিন এটিএন বাংলায় একক সংগীত অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছিলেন। তিনি নিজেই সেই অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দর্শক শ্রোতাদের বিমোহিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।

ড. মাহফুজুর রহমানের সংগীতানুষ্ঠান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরোদিন ধরেই চলেছে নানা আলোচনা, সমালোচনা।  বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সংগীত একটি শিল্প। যাদের সুন্দর মন নেই তারা প্রকৃত শ্রোতা নয়, তারা অসুন্দর পিপাসু।’

অনেকে এই গানের সমালোচনা করেছেন। আবার অনেকে তার তোষামোদিও করেছেন। আমরা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বলতে চাই, একজন মানুষ গান গাওয়ার চেষ্টা করতেই পারেন। আমরাও সাধারণত গানের ২/১টি লাইন সবাই উচ্চারণ করে থাকি। সেটা সঠিক হচ্ছে কি হচ্ছে না, তা বিচার করার ক্ষমতা আমাদের নেই। কারণ আমাদের গানের চরণগুলো কেউ ভিডিও করেন না বা করি না। আবার কোনো চ্যানেলে প্রচার করারও ক্ষমতাও আমাদের নেই। কিন্তু গান সবারই গাইতে ইচ্ছা করে। গান সবাই ভালবাসে এ কথা বলা যায়।

ড. মাহফুজুর রহমানও একজন সঙ্গীত প্রিয় মানুষ হিসেবে নিজে গান গাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সে গান কতটা ভাল হয়েছে, বা কতটা সুরেলা হয়েছে তা যারা ওই অনুষ্ঠানটি দেখেছেন তারাই মূল্যায়ন করবেন। ফেসবুকে যারা পক্ষে বিপক্ষে নানা মন্তব্য করেছেন, তার বাইরেও যে হাজার হাজার দর্শক ওই অনুষ্ঠান দেখেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ড. মাহফুজুর রহমানের গানের অনুষ্ঠান কেমন হয়েছে এমন প্রশ্নে বলা যায়, পেশাদার গায়কদের মতো হয়তো তার গান শ্রুতিমধুর হয়নি। আবার অনেকের কাছে ভালও লাগতে পারে। তাই বলে ফেসবুকে অশ্লীল মন্তব্য করাটা কতটা সমীচীন। সমালোচনা করা যায়, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কটুক্তি করা, ব্যঙ্গ করাটা মনে হয় ঠিক না।

দেশনিউজের পক্ষ থেকে ফেসবুকে বিভিন্ন জনের মন্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে অনেকেই কটুক্তি করেছেন। কেউবা ব্যঙ্গ করেছেন নানা ভাবে।

আমাদের কথা হলো, গানের অনুষ্ঠানে ড. মাহফুজের অঙ্গভঙ্গি এবং গানের সুরে যদি কোনো অসঙ্গতি থেকে থাকে সেজন্য তিনি একা দায়ী নন। অনুষ্ঠানটি যিনি নির্মাণ করেছেন (মান্নান মোহাম্মদ ও তাশিক আহমেদ) তাদেরও  দায় কম না । তাদের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। তারা ওনাকে আরো ভাল নির্দেশনা দিয়ে হয়তো আরো ভাল কিছু করতে পারতেন। সবমিলিয়ে এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলা যায়, তিনি চেষ্টা করেছেন। আর চেষ্টা করতেতো কোনো দোষ নেই।

মহিউদ্দিন মোহন নামে একজন দর্শক তার ফেসবুকে লিখেছেন, ড. মাহফুজুর রহমান সাহেব তো অনুষ্ঠানটি দেখতে দর্শকদের বাধ্য করেননি। হতে পারে অনুষ্ঠানটি যথেষ্ট মান সম্পন্ন হয়নি। আর একটি অনুষ্ঠান সবার পছন্দ হবে এমনও কোনো কথা নেই। আবার সমালোচনার ঊর্ধ্বেও কেউ নন। মাহফুজ সাহেবেরও সমালোচনা করা যাবে । তবে তা হতে হবে শালীন ভাষায় । তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে আপত্তিকর কটুক্তি করা ভদ্রজনোচিত নয়।

কেউ কেউ এও বলছেন যে, নিজের টিভি চ্যানেল বলেই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই প্রোগ্রাম প্রচার করেছেন। এ অভিযোগ হয়তো একেবারে অসত্য নয়। তবে ক্ষমতা হাতে পেলে আমরা তার কতটা অপব্যবহার করতে পারি, তার প্রমাণ তো ওই ফেসবুকে সমালোচকরাই ! যা খুশি লিখে ফেসবুকে পোস্ট করার ক্ষমতা নিজেদের হাতে আছে বলেই তারা অমন নোংরা ভাষায় মাহফুজ সাহেবকে আক্রমণ করতে পেরেছেন। অন্য কোনো গণমাধ্যমে কি তারা এমন সুযোগ পাবে?

মনে হয় অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার বিকৃত মানসিকতা আমাদের পরিহার করা দরকার । কাউকে সম্মান না দিলেন, কিন্তু অসম্মানিত করাটা কতটা সঠিক তাও ভাবা ‍উচিত ।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

উপদেষ্টা : মাসুদ রানা, কাজী আকরাম হোসেন, খন্দকার সাঈদ আহমেদ, প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : রফিক আহমেদ মুফদি, বিশেষ প্রতিনিধি : মোস্তাক হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার: জুটন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জাকির হোসেন। যোগাযোগ: ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রুম নম্বর ১২০৪, মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ মোড়, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮১৯-০৬৭৫২৯, ই-মেইল: monirjjd@yahoo.com,

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD