26 September 2017 , Tuesday
Bangla Font Download

You Are Here: Home » সর্বশেষ সংবাদ » মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগে সংসদে প্রস্তাব গৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন এবং তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো বন্ধে মিয়ানমারকে চাপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গতকাল সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরকার দলের সংসদ সদস্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সর্বসন্মতক্রমে সংসদে গৃহীত হয়।

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির উত্থাপিত এই প্রস্তাবের উপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংসদ সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন।

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দেওয়ার উপর জোর দেন সংসদ সদস্যরা।

দীপু মনির প্রস্তাবটি হচ্ছে, ‘সংসদের অভিমত এই যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ, তাদেরকে তাদের বাসভূমি থেকে বিতাড়ন করে বাংলাদেশে পুশইন করা থেকে বিরত থাকা এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হোক ।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য সেইফ জোন করতে হবে। বাংলাদেশে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করতে হবে। কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের ধারাবাহিক অপচেষ্টা আমাদের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।’

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশে রয়েছে।

এরপর ২০১২ সালে সহিংসতার পর ফের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশমুখী হলে তখন সীমান্তে কড়াকড়ি করে সরকার। তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। গত বছর একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও একই অবস্থানেই থাকে বাংলাদেশ। তার মধ্যেও দুই বারও আরও কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।

এবার গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ৩ লাখে পৌঁছে গেছে।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারে ‘সেইফ জোন’ গড়ে তুলতে প্রস্তাব দিলেও ইয়াঙ্গুন সরকার তাতে সাড়া দিচ্ছে না। উল্টো রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ বলার মাধ্যমে মিয়ানমার বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের পরিস্থিতি বর্ণনা করে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পরপরই মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দিতে সংসদে প্রস্তাবটি গ্রহণ হলো।

প্রস্তাবের নোটিসে দীপু মনি মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে নানা ইতিহাস থেকে তথ্য এনে বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারেরেই নাগরিক।

তিনি বলেন, ‘তারা ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আরাকান রাজ্যে বসবাস করছে। চতুর্দশ ও পঞ্চাদশ শতাব্দীতে আরাকান ছিল স্বাধীন মুসলিম রাজ্য। ১৪০৪ সাল থেকে ১৬২২ সাল পর্যন্ত ১৬ জন মুসলিম সম্রাট আরাকান শাসন করেছেন। রাজা বোধাপোয়া ১৭৮৪ সালে আরাকান দখল করে তৎকালীন বার্মার সঙ্গে যুক্ত করেন।’

১৯৪৮ সালে ইউনিয়ন অফ বার্মা ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের সময়ও আরাকান বা বর্তমানের রাখাইন ওই দেশের অংশ ছিল বলেও সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৮২ সালের বার্মার নাগরিকত্ব আইন জারির পর রোহিঙ্গাদের তাদের সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।’

রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সুপারিশের কথাও বলেন দীপু মনি; যেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিয়ে ফেরত নেওয়ার কথা বলা আছে।

দীপু মনি বলেন, ‘ভূমধ্য সাগরে এক আইলানের লাশ বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। শত আইলানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ আজ নাফ নদীর তীরে ভাসছে। আমরা চাই বিশ্ব বিবেক এগিয়ে আসুক, রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াক।’

রোহিঙ্গা নিপীড়নের জন্য মিয়ানমারে সমালোচনার পাশাপাশি আশ্রয়দাতা হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করছে বিশ্ব। তবে সরকার বরাবরেই বলে আসছে, এই বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর ভার বহন করা সম্ভবপর নয়।

সংসদে আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন ও ভারতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শান্তির জন্য নোবেল পাওয়া নেত্রী এত অশান্তি সৃষ্টি করে কীভাবে? ভারত ও চীন তারাও উদ্যোগ নিয়ে আসবেন.. সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশা করি।’

রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়া বাংলাদেশের জন্য শুভ হবে না বলে বলে মনে করেন রওশন। এজন্য তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে বলেন তিনি।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু মিয়ানমারের সমালোচনা করে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের শুধু তাড়িয়ে ক্ষান্ত থাকছে না তারা। রোহিঙ্গারা যাতে অক্ষত অবস্থায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে মাইন পেতে রাখা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা শুধু ধর্মীয় বা জাতি নির্মূলের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না, এর পেছনে রয়েছে বিদেশি শক্তির নানা চক্রান্ত। আরাকান রাজ্য নানা ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীকে উস্কে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ।’

বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘মিয়ানমারে নৃশংস গণগত্যা চালানো হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ যেন আঞ্চলিক ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়, সে জন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা শরণার্থীদের বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কথা বলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ মিয়ানমারের নেত্রী সু চির ভূমিকর প্রসঙ্গ ধরে বলেন, ‘তার প্রতি শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু খারাপ লাগে।’

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘মিয়ানমার কি এতই শক্তিশালী যে পুরো বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাচ্ছে।’

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

উপদেষ্টা : মাসুদ রানা, কাজী আকরাম হোসেন, খন্দকার সাঈদ আহমেদ, প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : রফিক আহমেদ মুফদি, প্রধান বার্তা সম্পাদক : মহসিন হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি : মোস্তাক হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার: জুটন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জাকির হোসেন। যোগাযোগ: ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রুম নম্বর ১২০৪, মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ মোড়, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮১৯-০৬৭৫২৯, ০১৭১১-৭৮৩৮৬৮, ই-মেইল: monirjjd@yahoo.com, mohsindesh@gmail.com

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD