12 December 2017 , Tuesday
Bangla Font Download

You Are Here: Home » রাজনীতি » সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে দেশীয় সংস্কৃতি মুক্ত করতে এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। সংস্কৃতি রক্ষা করতে না পারলে স্বাধীনতা টিকবে না। বিভিন্ন দেশে এটা প্রমাণ হচ্ছে।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কচিকাঁচার মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসাধারণ সম্পদ আছে। হীরার মতো সম্পদ আছে। এটাকে সাইজ করে চমৎকার পণ্য তৈরির মাধ্যমে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নামতেই হবে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, এ সরকারের আমলে দেশ আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। ন্যায় বিচারের সুযোগ সৃষ্টি করলে তার রেহাই নাই। বিচার করতে গিয়ে এক মামলায় বিচারক বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাসের রায় দিয়েছিলেন। সেই বিচারক টিকতে পারেননি। তাকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

রিজভী বলেন, সবার ওপরে সুপ্রিম বিচারপতি শেখ হাসিনা। উনি অন্য কোনো সংগঠন বা রাষ্ট্রের অন্য কোনো অঙ্গের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, তা করতে যদি বিরোধী দলকে কোনো প্রতিকার দেয় সেটা চলবে না। তাকে পালিয়ে যেতে হবে। আর না হলে গুম হয়ে যেতে হবে।

‘যেমন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন। সর্বশেষ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়েছেন। যেটা প্রধানমন্ত্রীর অপছন্দের। প্রধানমন্ত্রী এটাকে একেবারে সহ্য করতে পারেননি। বহু চেষ্টা করেছেন কিন্তু প্রধান বিচারপতির যে দৃঢ়তা তা থেকে বিচ্যুতি ঘটাতে পারেননি’।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে জোর করে সরানো হয়েছে, এটা একেবারে সুষ্পষ্ট। তাদের কথার মধ্যে দ্বৈততা, দ্বিচারিতা এবং সামঞ্জস্যহীনতায় স্পষ্ট হয় যে এটা প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ হয়নি’।

বর্তমান পার্লামেন্টকে বাকশালী উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এখানে সত্যিকারের কোনো বিরোধী দল নেই। এভাবেই তিনি টিকে থাকতে চান। আমার মন যা চাহে তখন আমি সেটাই করবো, এটাই হচ্ছে তার মনোবৃত্তি। আর সে কারণেই দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হোক তিনি তা চান না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার একটি কথা বললেন। ইভিএম ব্যবহার হবে না। সামনের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়ন হবে। তার একদিন পরেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার বললেন, না না না এটা তার ভিন্ন মত। একজন কমিশনার যখন বলবেন তখন এটা তো গোটা নির্বাচন কমিশনারেরই কথা। এরকম কথা বলার কারণটা কি? প্রধান নির্বাচন কমিশনার হচ্ছেন একটা মাইকের হর্ন। এ হর্ন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যা বলা হবে তাই বলবে। কারণ উনি জনতার মঞ্চে উঠেছেন। তাকে দলীয় দায়িত্বে শপথ পড়িয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের দাবি হচ্ছে ইভিএম দেয়া চলবে না। কারণ ইভিএম-এ দূর থেকে প্রভাব বিস্তারে সুযোগ রয়েছে। এটাতে শুধু বিএনপি আপত্তি জানায়নি। অনেক সামাজিক সংগঠন ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাও বিরোধীতা করেছে। এবং ম্যাজিস্টেসিসহ সেনা মোতায়নের কথা বলা হয়েছে কিন্তু এটা তো প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ হবে না। উনি হাসিনা মার্কা নির্বাচন করবেন। রাত ৩টার মধ্যে ব্যালট বাক্স ভরে যাবে। ভোর রাতের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ জিতে যাবে।

জাসাস সভাপতি ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক হেলাল খানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমদ উজ্জল, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে গান পরিবেশন করেন ইথুন বাবু, দিঠি, মাহিন, নাসির খান, পিয়াল হাসান, মিয়া হোসেন প্রমুখ।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

উপদেষ্টা : মাসুদ রানা, কাজী আকরাম হোসেন, খন্দকার সাঈদ আহমেদ, প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : রফিক আহমেদ মুফদি, বিশেষ প্রতিনিধি : মোস্তাক হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার: জুটন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জাকির হোসেন। যোগাযোগ: ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রুম নম্বর ১২০৪, মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ মোড়, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮১৯-০৬৭৫২৯, ই-মেইল: monirjjd@yahoo.com,

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD