12 December 2017 , Tuesday
Bangla Font Download

You Are Here: Home » সর্বশেষ সংবাদ » ১ ডিসেম্বর সুবর্ণজয়ন্তীতে মধুমিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  মধুমিতা সিনেমা হল। ঢাকার অন্যতম পুরানো সিনেমা হল। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন এই সিনেমা হলের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৬৭ সালের ১ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু মধুমিতা সিনেমা হলের। এটি উদ্বোধন করেছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার বিচারপতি আবদুল জব্বার খান। কাল ১ ডিসেম্বর ৫০ বছর পূর্তি হবে মধুমিতা । মধুমিতা সিনেমা হল আনুষ্ঠানিকভাবে কাল ৫০ বছর পূর্তির আয়োজনে মাতবে। সিনেমা হলে দর্শক দেখতে পাবেন তৌকীর আহমেদ পরিচালিত নতুন ছবি ‘হালদা’।

সিনেমা হলের নামকরণে রয়েছে একটি ঘটনা। সিনেমা হলের নাম চেয়ে দৈনিক পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেন মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন। অনেকে নাম জমা দেয়ার পর সেখান থেকে ‘মধুমিতা’ নামটি পছন্দ করেন সিরাজ উদ্দিন। এই নাম প্রস্তাবকারীকে তখনকার দিনে ৫০০ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয় ও সেই সঙ্গে সিনেমা দেখার টিকিট ফ্রি করে দেয়া হয়।

এখন হলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। মধুমিতার  সুবর্ণজয়ন্তীতে  ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ১২২১ জন দর্শক একসঙ্গে বসে ছবি দেখতে পারেন এ সিনেমা হলে। যেমন বাংলা ছবি এখানে চলেছে ঠিক তেমনি ইংরেজি ছবিও এখানে বেশ ভালো ব্যবসা করেছে। আমি ৩৮ বছর ধরে এই সিনেমা হলের সঙ্গে।   অনেক স্মৃতি। , ‘ক্লিওপেট্রা’ ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু হয় মধুমিতার।

শুধু সিনেমা হল না মধুমিতা মুভিজ থেকে ‘মিস লংকা’, ‘গুনাহ’, ‘দূরদেশ’, ‘নিশান’, ‘শীষনাগ’, ‘ঘর জামাই’, ‘ঈদ মোবারক’, ‘মাসুম’, ‘কোবরা’, ‘আগুন’, ‘দিন দুনিয়া’, ‘অলঙ্কার’, ‘উৎসর্গ’সহ বেশকিছু সুপারহিট সিনেমা প্রোডাকশন হয়েছে। দর্শক সিনেমাগুলোর নাম আজও বলেন। শুধু বাংলা না ইংরেজি সিনেমাগুলোর কথাও বলতে চাই। ‘কিল অ্যান্ড কিল এগেইন’, ‘হেলেন অফ ট্রয়’, ‘জেসিস গার্লস’, ‘বেনহার’, ‘কমান্ডো’, ‘জুরাসিক পার্ক’, ‘ডেসপারেডো’, ‘দ্য মাম্মি’, ‘টাইটানিক’, ‘বেবিস ডে আউট’, ‘কিল দেম অল অ্যান্ড কাম ব্যাক এলোন’সহ আরো অনেক আমাদের আমদানিকৃত সিনেমা এখানে দর্শকরা উপভোগ করেছেন।

শুরুর দিনই আমরা আধুনিক শব্দ (ম্যাগনেটিক সাউন্ড) সুবিধা নিয়ে চালু করেছিলাম। ১৯৯৭ সাল থেকে এখানকার পর্দা বা স্ক্রিনে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে সিনেমা হলে বসার আসন, বাথরুম থেকে শুরু করে শব্দ ব্যবস্থা সবকিছুই বদলে ফেলা হয়েছে । বর্তমানে বাংলা সিনেমার ব্যবসা মন্দার দিকে। এরপর একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেলেও মধুমিতা সময়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চালু আছে। সিনেমার প্রযোজক, দর্শক সবার দৃষ্টিতে বর্তমানে চালু থাকা ঢাকার হলের মধ্যে অন্যতম আধুনিক হল মধুমিতা। রাজনীতিবিদ, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ফিল্মের এমন কোনো তারকা নেই যিনি মধুমিতায় ছবি দেখতে আসেননি।

মতিঝিল এলাকায় তিন বিঘা জায়গায় নিজস্ব ভবনে গড়ে উঠেছে এই সিনেমা হলটি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ভবিষ্যতে এ হলের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সিনেপ্লেক্স করার পরিকল্পনা আছে।  যেখানে দর্শক বাংলা ও ইংরেজি সিনেমা একসঙ্গে দেখতে পাবেন। সেখানে ফুডকোর্টের পাশাপাশি শিশুদের খেলার আয়োজনও রাখা হবে।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

উপদেষ্টা : মাসুদ রানা, কাজী আকরাম হোসেন, খন্দকার সাঈদ আহমেদ, প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : রফিক আহমেদ মুফদি, বিশেষ প্রতিনিধি : মোস্তাক হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার: জুটন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জাকির হোসেন। যোগাযোগ: ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রুম নম্বর ১২০৪, মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ মোড়, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮১৯-০৬৭৫২৯, ই-মেইল: monirjjd@yahoo.com,

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD