26 September 2018 , Wednesday
Bangla Font Download

You Are Here: Home » জাতীয়, সর্বশেষ সংবাদ » জনগণের সম্পদ আর লুটপাট ও পাচার করতে দেয়া হবে না

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এদেশের জনগণের সম্পদ আর লুটপাট ও পাচার করতে দেয়া হবে না। এ ধরনের অপকর্ম তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জনগণের পয়সা জনগণকে ফেরত দেয়ার যেসব আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে তার ব্যবস্থা হবে। গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। এর আগে বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায়ও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা ত্বরান্বিত করতে দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন কামনা করে বলেছেন, মাত্র ৯ বছর ক্ষমতায় থেকে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সারা বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল। কিন্তু আমরা প্রশ্ন, স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে দীর্ঘ ২৮ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কেন দেশের উন্নয়ন করতে পারেনি? তারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি কেন উন্নত করতে পারেনি? তার প্রধান কারণই হচ্ছে- এরা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী না। তারা দেশে থাকলেও তাদের হৃদয়ে পেয়ারে পাকিস্তান। পাকিস্তানের গোলামী করাই তাদের পছন্দ ছিল বলেই বাংলাদেশ উন্নত ও স্বাবলম্বী হোক তা- কোনোদিনই তারা চায়নি। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশ উন্নত হয়, এগিয়ে যায় আমরা তা প্রমাণ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে খন্দকার মোশ্‌তাক ও জেনারেল জিয়ার জড়িত থাকার কথা পুনরুল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অনেকেই জেনারেল জিয়াকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলার চেষ্টা করেছিলেন। জেনারেল জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র মানে যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন, ক্ষমতায়ন, ভোটের ও রাজনীতির অধিকার ফিরিয়ে দেয়া। কারাগারে বন্দি যুদ্ধাপরাধীদের মার্শাল অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মুক্তি দিয়ে রাজনীতি করার অধিকারই ছিল জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্রের নমুনা। তিনি বলেন, জনগণের গণতন্ত্র নয়, প্রতিরাতে কারফিউ, গণতন্ত্রের নামে স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন জেনারেল জিয়া করেছিলেন বলেই দেশ এগিয়ে যেতে পারেনি, বরং অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল।
ঐতিহাসিক ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করে বলেন, ’বঙ্গবন্ধু তোমায় কথা দিলাম- বাংলাদেশকে তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলবো। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। এজন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর ঐকান্তিক সমর্থন ও সহযোগিতাও কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ইতিহাসবিদ-অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, কেন্দ্রীয় নেতা মারুফা আকতার পপি, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে ক্ষমতা দখল করে খুনি মোশ্‌তাক ও জেনারেল জিয়ারা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধুর নাম ও ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশের মানুষকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তির বেড়াজালে ফেলে দেয়া হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুই বলেছিলেন- বাংলাদেশের মাটি খুব উর্বর। উর্বর মাটিতে গাছ-পালার সঙ্গে কিছু আগাছাও জন্ম নেয়। তেমনি খুনি মোশ্‌তাকের মতো গাদ্দারের জন্ম হয়েছিল এদেশের মাটিতে। পাকিস্তানি হানাদাররা এদেশে গণহত্যা চালিয়েছিল, সারা দেশের গ্রাম-গঞ্জ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। আর তাদের সাহায্য করেছিল আমাদের দেশেরই কিছু কুলাঙ্গার আলবদর-রাজাকার, আল-শামসরা। বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ভয়াল চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেনারেল জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়াও একাত্তরের স্বীকৃত গণহত্যাকারী-যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে তুলে দেন লাখো শহীদের রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীরাই যেন হয়ে যায় এদেশের হর্তা-কর্তা-বিধাতা। ২১শে আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলা, একসঙ্গে ৫শ’ স্থানে বোমা হামলা, জঙ্গি-সন্ত্রাস, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, নারী নির্যাতন এমন কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নেই যে, বিএনপি-জামায়াত জোটের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়নি। তিনি বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদাররা যেভাবে গণহত্যা ও জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েছিল, বিএনপি-জামায়াত জোট ঠিক একই কায়দায় আন্দোলনের নামে নির্বিচারে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে। সরকার উৎখাত না করে ঘরে ফিরবো না এ কথা বলে খালেদা জিয়া নির্বিচারে শ’ শ’ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সারা দেশে নাশকতা চালান। কিন্তু দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করে যে, সরকার শাসক নয়, জনগণের সেবক। ৯৬-২০০১ এই পাঁচ বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের স্বর্ণযুগ। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দেশকে আবারও পিছিয়ে দিয়ে যায়। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে জনগণের ভোটে পুনরায় ক্ষমতায় এসে আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে আবারও মজবুত করি। বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল। আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছি। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে বন্দি করার পর দীর্ঘ ৯ মাস আমরা জানতাম না তিনি বেঁচে আছেন কি না। কারণ বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি ধানমন্ডির ১৮ নম্বর বাড়িতে আমাদের পরিবারের সবাইকে বন্দি করে রাখা হয়। পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু যখন প্রথম লন্ডনে যান, তখন জানতে পারি তিনি বেঁচে আছেন। বঙ্গবন্ধু লন্ডন থেকে যখন আমাদের কাছে ফোন করেছিলেন- তখন আমাদের কথা বলার মতো কোন অবস্থা ছিল না। শুধু আমাদের অপেক্ষা ছিল কখন ফিরে আসবেন আমাদের জাতির পিতা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১০ই জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করে আমাদের কাছে নয়, বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে গিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় এদেশের মানুষের কাছে। তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে কীভাবে স্বাধীন দেশকে গড়ে তোলা হবে, কোন নীতিতে এদেশ চলবে ও গড়ে উঠবে সেই দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মাত্র সাড়ে ৩ তিন বছরে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ১০ মাসের মধ্যে বাঙালি জাতিকে শাসনতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। যখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলতে দেশকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা চরম আঘাত হেনে বাঙালি জাতিকে অগ্রগতির মিছিল থেকে ফেলে দেয়। দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধনমন্ত্রী।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

উপদেষ্টা : মাসুদ রানা, কাজী আকরাম হোসেন, খন্দকার সাঈদ আহমেদ, প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : রফিক আহমেদ মুফদি, বিশেষ প্রতিনিধি : মোস্তাক হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার: হানিফ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জাকির হোসেন। যোগাযোগ: ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রুম নম্বর ১২০৪, মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ মোড়, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮১৯-০৬৭৫২৯, ই-মেইল: monirjjd@yahoo.com,

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD