16 August 2018 , Thursday
Bangla Font Download

You Are Here: Home » রাজনীতি, সর্বশেষ সংবাদ » সরকার রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজকে যারা সরকারে আছে তারাই একদিন সমস্ত গণমাধ্যমকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ভুলে গেলে চলবে না, তারা সমস্ত পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। জিয়াউর রহমান সেই পত্রিকাগুলোকে খুলে দিয়েছিলেন বলেই আজকে এতগুলো পত্রিকা-চ্যানেল চলছে।

সোমবার (২৮ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনের বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন(বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যে হারে তারা(সরকার) গণমাধ্যমের ওপরে চাপ সৃষ্টি করছে, যে হারে সেন্সরশিপ-ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, তাতে সত্যিকার তথ্য বের হয়ে আসতে পারছে না। আজকে যারা সত্য কথা বলছেন তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে, অথবা তাদেরকে বিভিন্নভাবে বিপদগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে খুলনার নির্বাচনে যারা সত্য কথা সামনে নিয়ে এসেছিলেন তাদের অনেককে চাকুরিচ্যুত হতে হয়েছে।

দেশে একটা নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে,নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে। একই সঙ্গে এই দেশে আইনের শাসন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আসুন আমরা আজকে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সমাজের সকল শ্রেণী- পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন করি।

খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা সাজা দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাকে বিভিন্ন অপকৌশলের মধ্যে দিয়ে কারাগারে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ এই সরকার রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে।জনগণের কাছে যেতে ভয় পায়, জনগণকে সামনে আনতে ভয় পায়।

দেশ আজকে  যে পরিস্থিতির মধ্যে এটাকে একটা ভয়াবহ অবস্থা বলা যেতে পারে। স্বাধীনতাযুদ্ধে যে চেতনা ছিল,মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা ছিল, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবার। সেই চেতনাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।আজকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক কোনো মূল্যবোধই আর স্থান পাচ্ছে না। গণতন্ত্রের সব স্তম্ভগুলোকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় স্তম্ভটি গণমাধ্যম, যার ওপরে গণতন্ত্র টিকে থাকে, সবার আগে সেই গণমাধ্যমের ওপরেই আঘাত করা হয়েছে।

আমরা দেখেছি কিভাবে একের পর এক পত্রিকাগুলোকে বন্ধ করা হয়েছে। চ্যানেলগুলোকে বন্ধ করা হয়েছে।সাংবাদিক ভাইদের ওপরে কিভাবে নির্যাতন নেমে এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। সাগর-রুনির হত্যার পরে আজ পর‌্যন্ত তার বিচার করা হয়নি। আমরা দেখেছি মাহমুদুর রহমানের মতো বলিষ্ট দেশপ্রেমিক সাংবাদিক সম্পাদক, শওকত মাহমুদদের মতো সম্পাদককে কারান্তরিণ হতে হয়েছে।

আজকে অসংখ্য সাংবাদিক ভাইয়েরা নির্যাতিত হচ্ছেন। একদিকে যেমন রাজনীতিকে সম্পূর্ণভাবে একটি একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, মানুষের অধিকারগুলোকে হরণ করা হয়েছে, খর্ব করা হয়েছে, অন্যদিকে একই ভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধংস করে ফেলবার জন্য দুর্নীতির মাধ্যমে একটা লুটপাটের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আজকে শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা সব একে একে ধংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের স্বাধীন বিচার বিভাগ করায়ত্ব করার জন্য তারা সর্ব প্রকার উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা দেখেছি প্রধান বিচারপতি সিনহা সাহেবকে কিভাবে এই দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে শুধুমাত্র সত্য কথা বলার জন্য।

আমরা আজকে এই দেশে সাধারণ নাগরিক স্বাধীনভাবে বেচে থাকার কোনো নিরাপত্তা খুজে পাচ্ছে না। আপনারা লক্ষ্য করছেন গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে বিনা বিচারে হত্যা চলছে, মাদকসেবনকারী বা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তারা আসলে কাদেরকে হত্যা করছেন আমরা কিছুই জানতে পারছি না। আমরা শুধু জানছি যে বিনা বিচারে মিথ্যা কথা বলে তাদের হত্যা করা হচ্ছে। আমরা সবাই মাদকের বিরুদ্ধে, আমরা চাই এই দেশ পুরোপুরিভাবে মাদকমুক্ত হোক, একই সঙ্গে আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেজন্য আমরা বার বার বলে আসছি, বিনা বিচার কাউকে হত্যা করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ( বিএফইউজ) সভাপতি রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস,আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বরকত উল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় প্রেসক্লাব ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী প্রমুখ।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

উপদেষ্টা : মাসুদ রানা, কাজী আকরাম হোসেন, খন্দকার সাঈদ আহমেদ, প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : রফিক আহমেদ মুফদি, বিশেষ প্রতিনিধি : মোস্তাক হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার: হানিফ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জাকির হোসেন। যোগাযোগ: ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রুম নম্বর ১২০৪, মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ মোড়, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮১৯-০৬৭৫২৯, ই-মেইল: monirjjd@yahoo.com,

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD