26 September 2017 , Tuesday
Bangla Font Download

You Are Here: Home » জাতীয়, শীর্ষ দশ, সর্বশেষ সংবাদ » কোরআন কারা পুড়িয়েছে সরকারকে বলতে হবে : বি.চৌধুরী

ঢাকা, ৭ মে : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ‘আল্লাহ তুমিতো সবচেয়ে বড় বিচারক। পবিত্র কোরআন শরীফ পোড়ানো হলো আর বলা হচ্ছে মাওলানা সাহেবরা কোরআন শরীফ পুড়িয়েছেন। এটা কখনো হয়? কোনো মুসলমান কখনো কোরআন পোড়াবে না। এতবড় সাহস কারো নাই। কে ছিল সেই ষড়যন্ত্র কারী, বলতে হবে বলতে হবে, বলতে হবে। এই সরকারকে বলতে হবে, এই সরকারকে বলতে হবে। কে ছিল সেই সব মানুষ। যারা আল্লাহ খোদা বিশ্বাস করে না, এরকম মানুষ ছাড়া কেউ কোরআন শরীফ পোড়াতে পারে?

মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হেফাজতে ইসলামের নিহত নেতাকর্মীদের জন্য গায়েবানা জানাজার আগে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের কাছে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘কোথায় গণতন্ত্র? কোথায় গণতন্ত্র?। এর জবাব দিতে হবে। আজ কাল পরশু জবাব আসবে। যারা চলে গেলেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি আল্লাহ তালার দরবারে।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বন্ধ করে, গভীর রাতে, সমস্ত বাতি নিভিয়ে দিয়ে, রেডিও টিভির সাংবাদিকদের সরিয়ে দিয়ে যে নৃসংশ হত্যাকা- করা হলো ইতিহাসে এর জুড়ি আর একবার ছিল। ৭১ সালে। কিন্তু সেটাতো আমাদের দেশের সরকার ছিল না। তখনতো আমাদের বিরোধী সরকার ছিল। আমাদের হত্যাকারী সরকার ছিল। আমরাতো তাদেরকে কখনো সমর্থন করি নাই। আমরা আজকে কি দেখলাম, তথাকথিত একটি নির্বাচিত সরকার সমস্ত বাতি নিভিয়ে দিয়ে, দুই/তিন দিক থেকে সারাশি আক্রমন করলো। মনে হয় যেন বিরাট একটা শত্রু পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ হচ্ছে। আমরা তো একটাও অস্ত্র দেখলাম না। দেখাতো পারলো না ছবিতে। বন্ধুক ছিল, বোমা ছিল, পিস্তল ছিল, একটাওতো বের করতে পারলেন না।  একথা বলে প্রমাণ করতে পারবেন না। তারা অস্ত্রহীন ছিল।

তিনি বলেন, ‘ যারা মারা গেছেন তাদের সবাই হেফাজতে ইসলামের নেতা বা কর্মী ছিলেন না। সাধারণ মানুষ ছিলেন। যারা আল্লাহ এবং রাসুলের বিরুদ্ধে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কি বলা হয় তা শুনতে গেছেন এবং তাদের সমর্থন জানাতে গেছেন। আর কিছুই না। এই ধরণের সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে নির্বিচারে হত্যা করলো।

তিনি সরকারকে বলেন, সাহস থাকলে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ২/৩ জনকে দিয়ে একটি কমিশন গঠন করুণ। আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে। জানাতে হবে কেন দুটি টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়া হলো। তাদের বলতে হবে বাতি কেন নিভিয়ে দিয়ে হত্যা করা হলো। বাতি থাকলেও কিছুটা বাঁচতে পারতো, পথ খুঁজে পেত। শুধু তাই নয় একটা পত্রিকায় দেখলাম তাদের কান ধরে বসানো হয়েছে। আমি জানি না পৃথিবীতে কোনো যুদ্ধে শত্রু পক্ষকেও কান ধরে বসানো হয় কি না। কান ধরে তওবা করানো হচ্ছে বলে নীচে লেখা আছে। এরকম আর কখনো দেখিনি।

বি. চৌধুরী প্রশ্ন করেন, এর নাম কি গণতন্ত্র? আমার সামনে সাংবাদিকরা আছেন। আমি জানি তারা কথা বলতে পারবেন না। তাদের মুখে তালাচাবি দেয়া হয়েছে। এই তালাচাবি যারা দিয়েছেন, জাতি তাদের কখনো ক্ষমা করবে না।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করবো, এই সরকারের সেই সাহস আছে, এই সরকারতো পাকিস্তানী সরকার না। আমাদের দেশের সরকার। ভুল হলে ভুল স্বীকার করবেন, ক্ষমা চাওয়া লাগলে ক্ষমা চাইবেন। আমি জানি সেই সৎ সাহস তাদের আছে।

তিনি বলেন, ‘একটা মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। এই সরকারে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন। দেশের মানুষকে তারা ভাল বাসেন না, একথা বিশ্বাস করতে আমার অনেক কষ্ট হয়।

তিনি বলেন, কোথাও বিচার না করে আল্লাহর কাছে আমরা বিচার চাইতেই পারি। হে আল্লাহ, তুমি বিচার করো, এত বড় অন্যায়ের তুমি বিচার করে দিও। হে আল্লাহ যারা চলে গেছে তাদের অনেকেই দেখলাম অল্প বয়সের। তাদের পরিবারের মনে তুমি শান্তি দাও।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন, যখন বিপদ আসে তখন দুটি জিনিস করতে হবে। ধৈর্য্য ধরতে হবে, আর সালাতের মাধ্যমে নালিশ জানাতে হবে। আমাদের সেই নালিশ রইল।’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী নিহতদের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, আমি এই হত্যাকা-ের বিচার চাই। আমার জীবনে এরকম নির্মম হত্যাকা- আর কখনো দেখিনি।

জানাজায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, জামায়াতে ইসলামীর ইজ্জত উল্লাহ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের মহাসচিব আতিকুল ইসলাম, পিপলস লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন, এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, আবদুল মান্নান, যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূইয়া, এম মালেকসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

উপদেষ্টা : মাসুদ রানা, কাজী আকরাম হোসেন, খন্দকার সাঈদ আহমেদ, প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : রফিক আহমেদ মুফদি, প্রধান বার্তা সম্পাদক : মহসিন হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি : মোস্তাক হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার: জুটন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জাকির হোসেন। যোগাযোগ: ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রুম নম্বর ১২০৪, মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ মোড়, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮১৯-০৬৭৫২৯, ০১৭১১-৭৮৩৮৬৮, ই-মেইল: monirjjd@yahoo.com, mohsindesh@gmail.com

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD