26 September 2017 , Tuesday
Bangla Font Download

You Are Here: Home » শীর্ষ দশ » ভাঙচুর ককটেল বিস্ফোরণে সারাদেশে হরতাল চলছে

ঢাকা : গাড়ি ভাঙচুর ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে সারাদেশে ১৮ দলের ডাকা দুই দিনের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। হরতাল চলাকালে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস-ট্রাক ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, ১৮ দলের ডাকা দুই দিনের হরতালের প্রথম দিন বুধবার গাজীপুরের কালীগঞ্জে দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে হরতাল সমর্থকরা।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন জানান, কালীগঞ্জ থানার জামালপুর বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা কেটিএল পরিবহনের একটি বাসে বুধবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে অগ্নিসংযোগ করেছে হরতাল সমর্থকরা। আগুনে দু’টি গাড়িরই আংশিক পুড়ে গেছে। পরে পুলিশ এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এছাড়া গাজীপুরে হরতাল চলছে অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে। ঢাকা টাঙ্গাইল ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল না করলেও অভ্যন্তরীণ সড়কে গাজীপুর থেকে বাস, টেম্পু, রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনা জাতীয় যানবাহন চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। কল-কারখানা, দোকান-পাট, বিপনী-বিতান, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা অফিস অন্যদিনের মতো যথারীতি খোলা রয়েছে।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তবে জেলার কোথাও আর কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।

বগুড়া সংবাদদাতা জানান, সারাদেশে ১৮ দলের ডাকা হরতালের প্রথম দিনের শুরুতেই বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার সকালে শহরের সেউজগাড়ি এলাকায় হরতালের সমর্থনে শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল বের হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে পিকেটাররা পরপর কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে পিকেটাররা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এছাড়া সকাল ৯টার দিকে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি,যুবদল ও ছাত্রদল খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে। এসব মিছিল একত্র হয়ে সাড়ে ৯টায় শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়কে পিকেটাররা টায়ার জালিয়ে ও বিক্ষোভ মিছিল করে অবরোধ করে রেখেছে।

সকাল থেকেই বগুড়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অফিস-আদালত দোকানপাট খোলেনি। শহরের গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্টে র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে জেলার ১২টি উপজেলায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই স্বতঃস্ফুর্ত ও শান্তিপুর্ণভাবে হরতাল পালিত হচ্ছে।

রাজশাহী সংবাদদাতা জানান, ১৮ দলীয় জোটের ডাকা দেশব্যাপী দুই দিনের সকাল-সন্ধ্যা হরতালের প্রথম দিন বুধবার রাজশাহীতে বিএনপর মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতালের সমর্থনে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকা থেকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় তারা  রাস্তায় বসে পড়ে এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শুরু করে।

এতে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু বক্তব্য রাখার সময় পাশ থেকে পুলিশ কয়েক রাউণ্ড ফাঁকা গুলি করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন ও যুবদলের মহানগর আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন।

হরতালের কারণে নগরীর অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট রয়েছে বন্ধ। রাজশাহী থেকে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে যথাসময়ে বিভিন্ন রুটের ট্রেন ছেড়ে গেছে। নগরীতে রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

হরতালকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরণের নাশকতা এড়াতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া নিয়মিত টহল দিচ্ছে পুলিশ ও র‌্যাব।

খুলনা সংবাদদাতা জানান, খুলনায় নিরুত্তাপ হরতাল পালিত হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে নগরীতে হালকা যানবাহন চলাচল করলেও সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে কোনো পরিবহন ছাড়েনি। তবে ট্রেন ও লঞ্চ যথারীতি চলাচল করছে।

সকাল ৮টার দিকে নগরী মির্জাপুর রোড় থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে বিএনপি। এ মিছিলে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে ছাত্র দল, যুবদল ও ছাত্রশিবির। তবে কোথাও কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে, সকাল থেকেই কেডি ঘোষ রোডের বিএনপি কার্যালয় পুলিশ বেরিকেড দিয়ে রেখেছে। সেখানে দলের নেতাকর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা জানান, ১৮ দলীয় জোটের ডাকা দুইদিনের হরতালের প্রথমদিন লক্ষ্মীপুরে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে হরতাল চলছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে মিছিল, টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং, সড়ক অবরোধ ও পৌর শহরে ৮-১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে পিকেটাররা।

বুধবার সকাল থেকে রায়পুর-চৌমুহনী সড়ক ও লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখে। এতে সকালে থেকেই সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া দালাল বাজার, রাখালিয়া, শহরের দক্ষিণ তেমুহনী, উত্তর বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের উপর হরতাল সমর্থকরা গাছের গুড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখে।

এদিকে সকাল ১০টায় রায়পুর উপজেলা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এবিএম জিলানী, বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সফিকুল আলম আলমাস এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শাহজাহান পাটওয়ারী ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফজলুল করিমের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলে চার শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলতাফ হোসেন বলেন, ‘হরতালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে সহিংসতা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হরতাল চলাকালে কাউকে আটক করা হয়নি।’

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরে হরতাল প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে পৌর আওয়ামী লীগ ও তাদের অন্যান্য সহযোগী সংঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে তারা মাঠে থাকার ঘোষণা দিলেও সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোনো হরতাল বিরোধীদের মাঠে দেখা যায়নি।

নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, ১৮ দলের ডাকা বুধ ও বৃহস্পতিবারের হরতালের প্রথমদিন নোয়াখালীতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও মিছিল করেছে হরতালকারীরা

তবে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে জেলা শহরের মাইজদী কোর্ট, জেলা শিল্পকলা মোড়, মাইজদী বাজার, পৌর বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ড, টেলিভিশিন সেন্টার, দত্তবাড়ি মোড়, উত্তর সোনাপুর ও সোনাপুর জিরো পয়েন্টে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং ইট ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে হরতাল সমর্থকরা

এদিকে, নাশকতার আশঙ্কায় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপির তিন ও জামায়াত-শিবিরের চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ

জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, নাশকতা এড়াতে জেলার বিভিন্ন স্থানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সাত নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ

জয়পুরহাট সংবাদদাতা জানান, জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ১৮ দলের ডাকা দুই দিনের সকাল-সন্ধা হরতাল চলছে। বুধবার সকাল থেকেই হরতালের সর্মথনে বিএনপিসহ ১৮ দলের নেতাকর্মীরা শহরে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে।

তবে সকাল থেকে আন্তঃজেলা ও দুরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল না করলেও শহরে রিকশা, অটোরিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। অধিকাংশ দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারি বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

জেলার পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল অব্যাহত রয়েছে।

বেনাপোল সংবাদদাতা জানান, ১৮ দলের ডাকা দুই দিন সকাল-সন্ধা হরতালের প্রথম দিন বুধবার বেনাপোল থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করার কারণে ভারত থেকে আসা দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীরা আটকা পড়েছেন বেনাপোলের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারে।

বেনাপোল বন্দরের অভ্যান্তরে আমদানিকৃত মালামাল লোড-আনলোড হলেও কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বন্দর ছেড়ে যায়নি। তবে দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য রয়েছে স্বাভাবিক।

বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলায় হরতালের পক্ষে বিপক্ষে কোথাও কোনো মিছিল বা পিকেটিং দেখা যায়নি।

বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান খান জানান, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই হরতাল পালিত হচ্ছে। তবে নাশকতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বুধ ও বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী হরতালের ঘোষণা দেন। এ দুইদিন প্রতিদিন সকাল ৬টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতাল চলবে।

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a Reply

উপদেষ্টা : মাসুদ রানা, কাজী আকরাম হোসেন, খন্দকার সাঈদ আহমেদ, প্রকাশক : রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সম্পাদক : রফিক আহমেদ মুফদি, প্রধান বার্তা সম্পাদক : মহসিন হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি : মোস্তাক হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার: জুটন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : জাকির হোসেন। যোগাযোগ: ২৭৮, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রুম নম্বর ১২০৪, মৌচাক টাওয়ার, মালিবাগ মোড়, ঢাকা। মোবাইল : ০১৮১৯-০৬৭৫২৯, ০১৭১১-৭৮৩৮৬৮, ই-মেইল: monirjjd@yahoo.com, mohsindesh@gmail.com

Site Hosted By: WWW.LOCALiT.COM.BD