September 28, 2021, 8:15 am

কুড়িগ্রামে বন্যায় ১৫ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামে বন্যায় ১৫ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামে বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১২ শিশুসহ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানিয়েছন, জেলায় গত ২৬ জুন থেকে প্রথম দফায় বন্যা শুরু হয়। এরপর ১০ দিন স্থায়ী এই বন্যার পানি সরে যাওয়ার ৪ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফার বন্যা শুরু হয়। এই বন্যা ১৪ দিন ধরে চলছে। ধরলা নদীর ফেরীঘাট পয়েন্ট এবং ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে এখনও পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার ৭৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৬টি ইউনিয়নের ৪৭৫টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামে আড়াই লাখের মতো মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বাঁধ-সড়কে আছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে বন্যা কবলিত এলাকায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে।

শুক্রবার কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ মো. আখের আলী জানান, ২৬ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১২ জনই শিশু।

ওই শিশুরা হলেন- শান্ত মিয়া (১০), বেলাল হোসেন (৫), মুক্তাসিন (১৪ মাস), কথা রায় (২), জাহিদ (১২), সুচরিতা (২), মাহিদ (১৭ মাস), লামিয়া খাতুন (২), কেয়া আক্তার মীম (১০), মুন্নি (১৮ মাস), লাদেন (৭) ও বায়েজিদ (৮)। অন্যরা হলেন- জামাল ব্যাপারী (৫৫), সৈয়দ আলী (৭০), সুরুজ্জামান (৪৩)।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৫ বছরে জেলায় শুধু বন্যার পানিতে ডুবে ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ২০১৯ সালের বন্যায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে ১৬ জনই শিশু। ২০১৮ সালে পানিতে ডুবে কোো মৃত্যুর খবর ছিল না। ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ৩০ জনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে শিশু ছিল ২০ জন। ২০১৬ সালে ৮ জনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে শিশু ছিল ৬ জন। ২০১৫ সালে এক জনের মৃত্যু হয়। আর সেও ছিল শিশু।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বন্যার পানিতে ডুবে ১২ শিশুর মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনাগুলো দুঃখজনক। শুধুমাত্র সচেতনতার মাধ্যমে মৃত্যুর এই মিছিল থামানো সম্ভব। এজন্য জনসচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসক ও স্বাস্হ্যকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিসহ সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে জনসচেতনতার কাজটি করা সম্ভব হলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা এম এ বকর জানান, তাদের কাজ মূলত শহর কেন্দ্রীক। শিশু শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন দিবসে প্রতিযোগিতার মধ্যে তাদের কাজ সীমাবদ্ধ। মাঠপর্যায়ে শিশু সুরক্ষার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি কিংবা অন্য কোনো কাজ নেই। আর এখন করোনার কারণে সব ধরনের কাজই বন্ধ।

ইউনিসেফ রংপুর অফিসের চাইল্ড প্রটেকশন অফিসার জেসমিন হোসাইন জানান, বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর যে হার তার উল্লেখযোগ্য অংশ মারা যাচ্ছে পানিতে ডুবে।এটি কমানো না গেলে দেশে শিশু মৃত্যুর হারও কমানো যাবে না।

তিনি আরও জানান, বাবা-মায়ের খেয়াল না রাখার কারণে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনাই বেশি হচ্ছে। তাই পরিবারসহ প্রতিবেশীদের সচেতন করে তুলতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © deshnews24
Hosted By LOCAL IT