September 22, 2020, 1:13 pm

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করার দাবি

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়কণ ও নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নন এমপিও শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

রোববার সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটি আহবায়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিঞা। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সদস্য সচিব রোকেয়া চৌধুরী বেবী ও সদস্য লোকমান হোসেন।

লিখিত বক্তৃতায় সেলিম মিঞা বলেন, কোভিভ-১৯ এ আজ বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক-অভিভাবক সকলেই মহামারী করোনার ভয়ে আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। দীর্ঘদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ থাকার কারনে শিক্ষার কারিকুলাম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অন-লাইনে কয়েকটি ক্লাশ নেয়া হলেও দেশের সিংহভাগ ছাত্র-ছাত্রী এ শিক্ষার সুফল থেকে বঞ্চিত।

প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারনে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন আদায় করা যাচ্ছে না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত বেতন পাচেছ না। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফান্ড থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের বেতন না দিয়ে কর্তৃপক্ষ গর্হিত কাজ করছেন বলে আমরা মনে করি। আমরা নন-এমপিও শিক্ষকরা করােনা মহামারীতে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

সরকারের পক্ষ থেকে যে সামান্য এককালীন প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করা হয়েছে তা দিয়ে পরিবার-পরিজন পরিচালনা করা দুঃসাধ্য। তাছাড়া ১লা আগষ্ট অনুষ্ঠিত ঈদ-উল-আযহায় বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের সরকারী অংশ দেয়া হয় নাই। পুর্নাঙ্গ উৎসব ভাতা দেয়া হয় নাই । আপনারা অনুমান করতে পারেন পরিবার-পরিজন নিয়ে কেমন ঈদ উৎসব পালন করছে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ১/১/১৯৮০ থেকে জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভূক্ত করেন এবং ৫০% বেতন স্কেল প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ ১০%+১০% = ২০% প্রদান করেন। ১৯৯৪ সালের শিক্ষক আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০%, ২০০০ সনে আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০% এবং সর্বশেষ
২০০৬ সনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০% বেতন প্রদান করে ১০০% এ উন্নীত করেন ।

এখন চাকুরী জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। চাকুরী জাতীয়করণের জন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই। বর্তমানে শিক্ষক কর্মচারীরা সরকার থেকে ১০০% বেতন পান। এজন্য সরকারকে প্রদান করতে হয় প্রতি মাসে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা। ১২ মাসে সরকারকে দিতে হয় ১২০০০ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হলে সরকারকে প্রদান করতে হবে মােট ১৭৮২০ কোটি টাকা প্রায়। বর্তমান সরকার বেতন বাবদ প্রদান করছে ১২০০০ কোটি টাকা ! অতিরিক্ত প্রদান করতে হবে প্রায় ৫৮২০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের আয় হবে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

ডিগ্রী পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণ করলে সরকারের আয় হবে ৫৯০%-৫৮২০=৮০ কোটি টাকা প্রায়।

বর্তমানে যে হারে শিক্ষক নির্যাতিত হন এবং চাকুরী হারান তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।
রাজনৈতিক দলের লােকেরা অর্থের বিনিময়ে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় অযােগ্য ব্যক্তিদের চাকুরি দিচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে হলে যত তারাতারি সম্ভব বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী এমপিওভুক্ত ও ননএমপিও সকলের চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে।

ইতিমধ্যে সরকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকে এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানকে জাতীকরণের ঘােষণা দিয়েছেন। কিন্তু জাতীয়করণের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ে বিভাজন নীতি পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাকরি জাতীয়করণ করে বৈষম্য দূর করতে হবে।

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়কণ ও নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করার দাবিতে আমরা সরকারকে বহুবার আল্টিমেটাম দেয়া সত্ত্বেও সরকার আমাদের দাবির প্রতি সামান্য সহানুভুতিশীল হননি।

এমনকি আমাদের সাথে কোন প্রকার আলােচনার প্রয়ােজনীয়তাও অনুভব করেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ঢাকায় মহাঅবস্থানের ঘোষণা দিচ্ছি। নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত ও চাকুরী জাতীয়করণের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ১৫৭ সংগঠনের বৃহত্তম মাের্চা শিক্ষক কর্মচারী চাকুরী বাস্তবায়ন কমিটির কর্মসূচির সাথে আমরা একাত্মতা ঘোষণা করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © deshnews24
Hosted By LOCAL IT