November 26, 2020, 4:10 pm

হেমন্তেও ঝরছে বর্ষার বৃষ্টি

হেমন্তেও ঝরছে বর্ষার বৃষ্টি

শরৎকাল শেষে হেমন্তের মাঝামাঝিতেও ঝরছে বৃষ্টি। বৃষ্টি না থাকলে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে। অথচ এ সময়ে হালকা শীত থাকার কথা। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ঋতুচক্রের ওপর নেতিকবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে ঝুঁকিতে পড়ছে কৃষি, বাড়ছে দুর্যোগ ও নতুন রোগের বিস্তৃতি ঘটছে।

এ পরিস্থিতি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক স্থানেই হচ্ছে। বর্তমানে শীত থাকছে ফাল্গুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত। কিন্তু তার পরই তাপমাত্রা চড়ে যাচ্ছে ৩৫ ডিগ্রির ওপরে। দখিনা বাতাসে থাকছে উষ্ণতা। আবার প্রচ- শীতের পরই লাফ দিয়ে চলে আসছে প্রচ- গরম। আবার দেশের এক স্থানে বৃষ্টিপাত হলে অন্য স্থানে থাকছে প্রচ- গরম।

সাধারণত জুন থেকে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল ধরা হলেও এবার অক্টোবরজুড়েই থাকছে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব। পরিবেশ দূষণের কারণে মূল চরিত্র বদলাচ্ছে সব ঋতু। শীতের আগমন দেরিতে হওয়ায় বসন্তের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াও আসছে না। গাছ কাটার ফলে উঁচু স্থান না থাকায় সমতল স্থানে মানুষের ওপর আঘাত হানছে বজ্রপাত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে দেখা গেছে, গত ৫০ বছরে দেশের তাপমাত্রা বাড়ার হার শতকরা দশমিক ৫। এ ধারা অব্যাহত থাকলে প্রকৃতি থেকে শীত ঋতু উধাও হয়ে যাবে।

অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় আবহাওয়া সংস্থার মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা নামে একটি বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে আগামী

তিন মাস ঝড়-বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই বাংলাদেশসহ উত্তর-পূর্ব ও মধ্য ভারত এবং মিয়ানমারে বৃষ্টির প্রবণতা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া পরিবেশ দূষণের কারণে শীত না থাকলেও কুয়াশা বাড়ছে। ঢাকা শহরের বাতাসে কার্বন ও ধূলিকণা জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে কুয়াশাকে গাঢ় করে তুলছে।

এ ছাড়া বন্যা ও লঘুচাপের পরিমাণও বেড়েছে। ‘জলবায়ু সেবা পরিস্থিতি ২০২০’ শীর্ষক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা-সাইক্লোনসহ নানা দুর্যোগে বাংলাদেশে গত ৪০ বছরে ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট সেন্ট্রালের গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বন্যার আঘাতের শিকার হবে বাংলাদেশের চার কোটি ২০ লাখ মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সাধারণত আগস্টে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ হয়। কিন্তু এ বছর হয়েছে পাঁচটি। সেপ্টেম্বরেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল। আর অক্টোবরে লঘুচাপ সৃষ্টি না হওয়ার কথা, কিন্তু গতকালই একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ‘বাংলাদেশের জলবায়ু’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়, গত কয়েক বছরে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বৃষ্টি হয়েছে। রংপুরে ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চলতি বছর।

বুয়েটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে বছরে বোরো ও আমন ধানের উৎপাদন ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যশোরের অভয়নগর, কেশবপুর ও মনিরামপুরে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ফসল ও মৎস্যসম্পদ হুমকিতে আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © deshnews24
Hosted By LOCAL IT