November 26, 2020, 3:29 pm

রাবির ভিসি-প্রোভিসিসহ ঊর্ধ্বতনদের সম্পদের উৎস খোঁজার সুপারিশ

রাবির ভিসি-প্রোভিসিসহ ঊর্ধ্বতনদের সম্পদের উৎস খোঁজার সুপারিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারীসহ কয়েক শিক্ষক এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল সবার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এমন সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউজিসির তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ইউজিসিতে দাখিল করে সরকারপন্থি শিক্ষকদের একাংশ। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগগুলো তদন্তে ইউজিসি একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজাকে আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরকে সদস্য করা হয়। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে উন্মুক্ত শুনানিরও আয়োজন করে।

তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুদকে সুপারিশসহ ৭৩৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এতে ৩৬ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদন এবং ৭০০ পৃষ্ঠার সংযোজনী প্রতিবেদন রয়েছে। প্রতিবেদনে রাবি উপাচার্য, উপ-উপাচার্যের সম্পদের উৎস খুঁজে বের করার পাশাপাশি রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারীকে অপসারণেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইউজিসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি রাবি উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের

অন্যদের বিরুদ্ধে ২৫টি অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। যার মধ্যে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণে রাষ্ট্রপতিকে (আচার্য) অসত্য তথ্য দেওয়া, শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। দেখা গেছে, উপাচার্য ড. সোবহান শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা শিথিল করে নিজের মেয়ে এবং জামাতাকে নিয়োগ দিয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে ৩৪ জন অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডুপ্লেক্স বাড়িও ১৮ মাস ধরে নানা অজুহাতে দখলে রাখেন। সে জন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ টাকা আদায়ের সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক বারীকে অপসারণের সুপারিশ করে বলা হয়, তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি কমিটিকে অসহযোগিতা করেছেন। তাই দ্রুত তাকে পদ থেকে অপসারণ করে শাস্তি দেওয়া হোক।

ইউজিসির এ তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে মতামত জানতে উপাচার্য ড. আবদুস সোবহানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © deshnews24
Hosted By LOCAL IT