November 26, 2020, 3:18 pm

ডোনাল্ড ট্রাম্প হেরে গেলে যেসব বিড়ম্বনায় পড়বেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প হেরে গেলে যেসব বিড়ম্বনায় পড়বেন

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সময় দুই সপ্তাহেরও কম বাকি। এখন পর্যন্ত অধিকাংশ জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন। রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নানা বাগাড়ম্বর করলেও পরাজয়ের শঙ্কা ঘিরে ধরেছে তাকেও। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় তার মুখে শোনা যাচ্ছে হার প্রসঙ্গে নানা উক্তি। তিনি হারলে ২০ দিনের মধ্যে আমেরিকা দখল করবে চীন, ফ্লোরিডায় হারলে সেখানকার গভর্নরকে বরখাস্ত করবেন এমনকি নির্বাচনে হারলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যাবেন বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এদিকে নির্বাচনে হেরে গেলে নারী কেলেঙ্কারি, ট্যাক্স রিটার্নসহ নানা অভিযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম বেকায়দায় পড়বেন বলে জানা গেছে। আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সাবেক কলামিস্ট ই জিন ক্যারলসহ ২৬ জন নারী আগে থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ ও মানহানির মামলা দায়ের করে রেখেছেন। এর সাথে রয়েছে ব্যবসা-সংক্রান্ত লেনদেনে প্রতারণা ও ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউসকে ব্যবহারের অভিযোগ। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতার দাপটে বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত ও মামলার কার্যক্রম ট্রাম্প আটকে রেখেছেন বা বিলম্বিত করছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আয়কর বিবরণীর দাখিল না করা। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়মুক্তির সুযোগকে তিনি কাজে লাগিয়ে এর থেকে কংগ্রেসকেও ঠেকিয়ে রাখছেন।

ট্রাম্পকে সবচেয়ে বড় যে আইনি হুমকি মোকাবিলা করতে হতে পারে সেটি হচ্ছে তার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ম্যানহাটন জেলা অ্যাটর্নি বোর্ডের ফৌজদারি তদন্ত। আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ও তার প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং প্রতারণা, ইন্স্যুরেন্স প্রতারণা, ফৌজদারি কর অপরাধ এবং মিথ্যা ব্যবসা তথ্য রেকর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না তা তদন্তে খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তার ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে তদন্তের বিষয়টিও তিনি চাপা দিতে বা বিলম্ব করতে পেরেছেন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা থাকার কারণে। আসন্ন নির্বাচনে হেরে গেলে এসব নিয়ে নড়াচড়া শুরু হবে বেশ জোরেশোরেই। এতে বিরাট বিড়ম্বনায় পড়বেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার অন্যতম ইস্যু অভিবাসী সংকট। ট্রাম্প যেভাবে অভিবাসীদের আটকাতে উঠেপড়ে লেগেছেন, নির্বাচনী প্রচারে তাকে হাতিয়ার করেছেন বাইডেন। তাতেও অবশ্য দমেননি ট্রাম্প। উল্টো আক্রমণ করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে কমিউনিজম আমদানি করবে। নির্বাচনে অভিবাসীরা তাই ট্রাম্পকে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। এদিকে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বর্ণবিদ্বেষের আগুন জ্বলেছিল গোটা দেশে। তার পরও সেই বিষয়টি নিয়ে নমনীয় মনোভাব দেখা যায়নি ট্রাম্পের প্রচারে। এ অবস্থায় কৃষ্ণাঙ্গদের ভোট ট্রাম্প কতটা টানতে পারবেন, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেন তার প্রচারে করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের সমালোচনা করছেন। মিশিগানে একটি গাড়ি শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ট্রাম্পকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘উনি শুধু বলছেন করোনাভাইরাস কোনো মিরাকলের মতো গায়েব হয়ে যাবে। কিন্তু তা নয়। এত সহজে অদৃশ্য হবে না এই ভাইরাস। এমনকি এখনো প্রতিদিন সংক্রমণ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞরা।’ বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে বাইডেনের মন্তব্য, ‘আমরা ভয়ের পরিবর্তে আশা, বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং গল্পগাথার বদলে বিজ্ঞান এবং সর্বোপরি মিথ্যার পরিবর্তে সত্যকে বেছে নিয়েছি।’

বাইডেনের এমন মার্জিত ও কৌশলী প্রচারণার বিপরীতে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ও বেফাঁস কথাবার্তায় ভরপুর প্রচারণায় ভোটাররা বাইডেনের দিকেই ঝুঁকছেন। তাই নির্বাচনী ময়দানের লড়াইয়ে বাইডেন বিজয়মাল্য পরলে ট্রাম্পকে ভবিষ্যতে আইনি ঝামেলাসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © deshnews24
Hosted By LOCAL IT