December 5, 2020, 3:38 pm

কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বহুমুখীকরণে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দরকার

কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বহুমুখীকরণে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দরকার

দেশের কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং পণ্যের বহুমুখীকরণে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে নতুন নতুন কৃষিপণ্য উদ্ভাবন ও নতুন বাজারের জন্য বেসরকারি খাতের এবং বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপর জোরারোপ করেন তারা। গতকাল ‘কভিড-পরবর্তী সময়ে ফুড ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘কভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ফুড ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক ওই ওয়েবিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

ওয়েবিনারে নির্ধারিত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ইউনিমার্ট-ইউনাইটেড গ্রুপের পরিচালক মালিক তালহা ইসমাইল বারী, বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসিং অ্যাসোসিয়েশনের জিএস মো. ইকতাদুল হক, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স) উজমা চৌধুরী, কারন্যাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. সালেহ আহমেদ ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকার দেশের মানুষের পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করণে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি কৃষি খাতে আধুনিকায়নে খরচ কমাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর জোরারোপ করেন।

তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন নিশ্চিকরণের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে লাভজনক খাতে পরিণত করা সম্ভব। তিনি কৃষি খাতে আরও বেশি হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর জন্য কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন আরও বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মতপ্রকাশ করেন।

কৃষিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৬০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে আরও বেশি দামে ভোক্তাদের কাছে এ ধরনের পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, যার মাধ্যমে আমাদের কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে; তবে এক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে আরও সম্প্রসারণের জন্য কৃষি প্রক্রিয়াজাত সেন্টার ও আন্তর্জাতিকমানের একটি ল্যাবরেটরির জন্য পূর্বাচলে দুই একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম নিশ্চিত করতে হলে ভ্যালু চেইন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদন ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার ৫০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণার পাশাপাশি ৪% সুদে কৃষিঋণ, বাজেটে কৃষি যন্ত্রের ওপর ভর্তুকি ও ধান কাটা সহজতর করতে বিভিন্ন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

চেম্বার সভাপতি বলেন, আমাদের দেশের ফুড ভ্যালু চেইনে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, মূলধন স্বল্পতা, পণ্য সংরক্ষণের অভাব, দুর্বল অবকাঠামো, পণ্য বাজারজাতকরণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের দক্ষতার অভাব প্রভৃতি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিরসনে দেশে আবাদযোগ্য প্রায় ২.২৩ লাখ হেক্টর পতিত জমিতে ফসলের চাষের উদ্যোগ গ্রহণ, বিশেষায়িত কৃষিপণ্যের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতি প্রণোদনা প্রদান, গুণগত মান রক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআইসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোরারোপ করেন।

ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড রুরাল ইন্ডাস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক ফুড ভ্যালু চেইনে মূলত চারটি বিষয় জড়িত। সেগুলো হলো ইনপুট, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ভোক্তাদের মধ্যে তা বিতরণ নিশ্চিতকরণ। তিনি জানান, সারা পৃথিবীতে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের মৎস্য খাত অন্যতম এবং প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৪২.৭৭ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হচ্ছে, যেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চিংড়ি মাছের উৎপাদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২.৫৪ লাখ মেট্রিক টন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © deshnews24
Hosted By LOCAL IT