September 25, 2021, 9:08 pm

কলাবাগানে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ‘আত্মহত্যা’

কলাবাগানে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ‘আত্মহত্যা’

রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণের শিকার হয়ে জান্নাত নামে এক কিশোরী গৃহকর্মী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার মেয়েটি কাপড় শুকাতে দেওয়ার জন্য ছাদে গেলে বাসার নিরাপত্তাকর্মী জুনায়েদ তাকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় লজ্জায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় মেয়েটি। পরে খবর পেয়ে কিশোরীর লাশ উদ্ধার ও জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মৃত কিশোরীর বয়স নিয়ে পুলিশ ও স্বজনরা ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, জান্নাতের বয়স ১৩ বছর। তবে পুলিশ বলছে, তার বয়স ১৭ বছর। মৃতের স্বজনের অভিযোগ, জান্নাতকে হত্যা করে কৌশলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে গৃহকর্তা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, কিশোরীর লাশ যে অবস্থায় পাওয়া গেছে তাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিক তদন্তে মেয়েটির ধর্ষণের শিকার হওয়ার তথ্য মিলেছে। এ কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, কলাবাগানের নর্থ সার্কুলার রোডের ৫৮ নম্বর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিল জান্নাত। বুধবার দুপুরে সে ভেজা কাপড় শুকানোর জন্য নয় তলা ভবনটির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী জুনায়েদ মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন। আরেক নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি দেখে ফেলেন। জুনায়েদ তাকে ঘটনাটি গোপন রাখার জন্য চাপাচাপি করেন। তবে সেই নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি গিয়ে গৃহকর্তাকে জানান। এদিকে ধর্ষণের ঘটনা লোকজন জেনে ফেলার লজ্জায় বাসার বাথরুমে ঢুকে গলায় ফাঁস দেয় জান্নাত। পরে কলাবাগান থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। সন্ধ্যায় গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

মৃত কিশোরীর ফুফু ফাতেমা খাতুন জানান, জান্নাতের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। তার বাবা কাশেম মিয়া একজন কৃষক। তার ছয় মেয়ে দুই ছেলের মধ্যে জান্নাত পঞ্চম। চার বছর আগে থেকে সে কলাবাগানের হুমায়ুন চৌধুরীর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। হঠাৎ তাদের ডেকে পাঠানো হয়। এখানে এসে জানতে পারেন, তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে এই কথা তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না। কারণ জান্নাত খুব শক্ত মনের মেয়ে ছিল। তার আত্মহত্যা করার কথা নয়। বরং গৃহকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েও সে কাজ করে যাচ্ছিল।

মৃতের চাচা হেলাল খান বলেন, কোনো কারণে জান্নাতকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়েও রাখা হয়ে থাকতে পারে। যেখানে সে আত্মহত্যা করেছে বলা হচ্ছে, ওই উচ্চতায় তার পা মেঝেতে লেগে যাওয়ার কথা। তাই প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে।

অভিযোগের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গৃহকর্তা হুমায়ুন চৌধুরী প্রথমে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি দাবি করেন, স্বজনরা কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুনায়েদ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ওই বাসার অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মেয়েটির সুরতহাল থেকেও এ ব্যাপারে ধারণা মিলেছে। পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজেও জুনায়েদের সন্দেহজনক গতিবিধি ধরা পড়েছে। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে এ ব্যাপারে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার জুনায়েদকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি কলাবাগানে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের ছাত্রী আনুশকাহ নূর আমিন তার এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই ঘটনায় তার বন্ধু ফারদিন ইফতেখার দিহান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সুত: সমকাল

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © deshnews24
Hosted By LOCAL IT