April 14, 2021, 12:02 pm

রক্তের হোলি খেলা বরদাস্ত করা হবে না : আইজিপি

রক্তের হোলি খেলা বরদাস্ত করা হবে না : আইজিপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘রক্তের হোলি খেলা গণতান্ত্রিক দেশে বরদাস্ত করা হবে না।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা ভয় পাবেন না। প্রত্যেকটি ঘটনার জন্য মামলা করেন। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা আছি আপনাদের পাশে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা ৭১ কে মনে করিয়ে দিয়েছে বলে জানান আইজিপি বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে সৌরভ নামে এক সাংবাদিককে ধরে চার কালেমা পড়িয়ে সে মুসলমান কিনা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ঘৃণা প্রকাশের ভাষা নেই। আমি চাই সবার মাঝে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা বঙ্গবন্ধুর একাধিক ম্যুরাল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর, রেলওয়ে স্টেশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, পৌর মেয়রের বাসভবন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সড়ক ও জনপথ কার্যালয়, গণপূর্ত অফিস, জেলা মৎস্য অফিস, সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ কার্যালয় ও ডাকবাংলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা ভবনে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

হেফাজতের কর্মীরা সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন, আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, মাতৃসদন, এসিল্যান্ডের কার্যালয়, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের কার্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালায়।

হেফাজতের এ ধ্বংসযজ্ঞ বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। এদিন দুপুরে ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন শেষে বিকেল সাড়ে তিনটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সার্কিট হাউজে ব্রিফিং করেন বেনজীর আহমেদ।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনারা কাকে কষ্ট দিচ্ছেন? এসিল্যান্ড কার্যালয় পুড়িয়েছেন, কার্যালয়ের রেকর্ড রুম পুড়িয়েছেন, এতে তো গ্রামের সাধারণ মানুষ কষ্ট করবে। রেলওয়ে স্টেশন পুড়িয়েছেন, স্টেশনের কন্ট্রোল প্যানেল ভাঙচুর করে পুড়িয়েছেন, এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ কষ্ট করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস করছেন কেন? আপনাদের ক্ষোভ কি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে?’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৭৪টি মাদরাসা আছে। এসব মাদরাসায় ১ লাখ ৩ হাজার ছাত্র আছে। তাদের ভরণপোষণ বাবদ বছরে খরচ হয় ৩৬০ কোটি টাকা। এই টাকা বহন করছেন আপনারা ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী। আপনারা তাদের খেদমত করছেন। খেদমত করে এখন প্রতিশোধের শিকার হচ্ছেন। আমাদেরকে রুহানী আলেম ও পলিটিক্যালি আলেমদের চিনতে হবে।’

পুলিশ কেন ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি সেটা দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইজিপি। মাইকিং করে পুলিশের আত্মরক্ষার কৌশলকে তিনি অপেশাদার আচরণ বলে মন্তব্য করেন। আইজিপি বলেন, ‘অপেশাদার পুলিশের দরকার নেই।’

ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের স্পেশাল শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, রেল পুলিশের ডিআইজি, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান প্রমুখ। প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেসক্লাব ও সুর সম্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনকে অনুদান প্রদান করেন আইজিপি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © deshnews24
Hosted By LOCAL IT