বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

গ্রামে গ্রামে কৃষি ক্লিনিক!

রিপোটার:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৪৪ Time View

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় কৃষকদের জন্য চালু করা হয়েছে প্রান্তীয় কৃষি ক্লিনিক। উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা বিভিন্ন গ্রামের একটি নির্দিষ্ট স্থানে পূর্বনির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রদান করেন কৃষি পরামর্শ সেবা।

মানুষের ডাক্তারদের মতো প্রেসক্রিপশন প্যাডে কৃষকেরা গ্রহণ করেন কৃষি পরামর্শ। প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপজেলার অফিসারদের সঙ্গেও কথা বলা যায়। মাঝে মাঝে উপজেলা পর্যায়ের অফিসারেরা আসেন পরিদর্শনে। এভাবে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে প্রান্তীয় কৃষি ক্লিনিকের কার্যক্রম।

বুড়িচং উত্তরপাড়া গ্রামে এমনই এক কৃষি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা কৃষক শাহীন মিয়া জানান, মূলত ধানের বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণ দমনে পরামর্শ নিতে আসেন অধিকাংশ কৃষক। ধান লাগানোর পর থেকে তাই লোকজনের সংখ্যা বাড়ে। তাছাড়া শাক সবজি ও ফল গাছের নানা বিষয়ে পরামর্শ নেই। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আমাদের গ্রামে বসেন।

ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এমনই এক ক্লিনিক পরিচালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোছা. সুলতানা ইয়াসমিন। তিনি জানান, কৃষক বেশি পরামর্শ নেয় ধানের নতুন নতুন জাত, সারের পরিমাণ, বিভিন্ন ফসলের রোগ বালাই দমন ইত্যাদি বিষয়ে। সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তির আমরা জানিয়ে দেই। ফলে নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ আমাদের জন্য সহজ হয়েছে। যেমন- পরামর্শ নিতে আসা সব কৃষকদের তেল জাতীয় ফসল সরিষা ও সূর্যমুখী চাষের ব্যাপারে বলা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বোরো মৌসুমে মাঝামাঝি মার্চ মাসে প্রান্তীয় কৃষি ক্লিনিক যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিটি কৃষি ব্লকে একটি করে ২৭টি ক্লিনিক চালু আছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন কৃষক সেবা নেন। এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি কৃষক প্রান্তীয় কৃষি ক্লিনিকের সেবা নিয়েছেন।

প্রান্তীয় কৃষি ক্লিনিক ধারণার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ বানিন রায় জানান, মূলত রোগ পোকা দমনে কৃষকদের কীটনাশক ডিলার নির্ভরতা ও অনুমান নির্ভর সার প্রয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে প্রান্তীয় কৃষি ক্লিনিক কাজ করছে। ফলশ্রুতিতে বেশ কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- নিরাপদ ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আমদানিকৃত সার ও কীটনাশকের অপচয় রোধ, সঠিক বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি। সেই সঙ্গে সেবা নিতে আসা কৃষকের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহও বেশি থাকে, যা প্রযুক্তি সম্প্রসারণে ব্যাপক সহায়ক।

সুত্র: যুগান্তর

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2022 deshnews24.com
Theme Customized By Max Speed Ltd.