April 14, 2021, 11:35 am

উত্তপ্ত আসাম-ত্রিপুরা, ইন্টারনেট বন্ধ

উত্তপ্ত আসাম-ত্রিপুরা, ইন্টারনেট বন্ধ

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে।

হরতালের পাশাপাশি সেখানে ভাঙচুরও চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার থেকে ত্রিপুরায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট ও এসএমএস সেবা বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার।
উত্তর-পূর্বের ছাত্র সংগঠনের ডাকা ১১ ঘণ্টার হরতালকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় সহিংসতা শুরু হওয়ায় এমন পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিল নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই বিল জাতিগত পরিচয় হরণ করবে।

আগরতলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করার পরই যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টার খবর পাওয়ার পরেই এসব পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের ধালাই জেলার একটি বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। তারপর থেকেই আসামের গুয়াহাটিসহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন স্থানে জনজীবন থমকে যায়। এই বিলের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্বের ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে বনধ্ ডাকা হয়। প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন বিক্ষোভকারীরা। উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টিয়ার রেলের তরফ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবরোধ করার কারণে বহু ট্রেন সেবা বাতিল করা হয়েছে।

আসামের বিভিন্ন অংশেও ব্যাপক প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিধানসভা ও রাজ্যের সচিবালয় সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। ডিব্রুগড় জেলায় সিআইএসএফ কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় বিক্ষোভকারীদের। দুলিয়াজানে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন।

২০১৫ সালের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে। দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তি, আন্দোলনকারী এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা অতি সত্ত্বর এই বিল প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন এবং একে পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন যে, প্রস্তাবিত আইন থেকে উত্তর-পূর্বের অনেকটা অংশই বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের দাবি, এর ফলে এসব এলাকায় প্রচুর অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়বে। সূত্র: এই সময়, আনন্দবাজার ও এনডিটিভি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © deshnews24
Hosted By LOCAL IT