April 15, 2021, 5:05 am

মঠবাড়িয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

মঠবাড়িয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

পিরোজপুরের পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন ও প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ জসীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ) বেলা ১১টায় মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়।

ঠিকাদারদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেসার্স রাফি এন্ড রিফা কনস্ট্রাকশনের সত্বাধিকারী ও উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লোকমান হোসেন খান। তিনি বলেন, পিপিআর বিধি অনুযায়ী আরএফকিউ টেন্ডার পদ্ধতিতে সিডিউল বিক্রি বা দরপত্র বিতরনের ক্ষেত্রে ৭১(৩) ধারায় কোন প্রকার মূল্য গ্রহণ ও ৭০(৬) ধারায় শতকরা ৫ ভাগ জামানত গ্রহণ করা যাবে না। যাহা সম্পূর্ন বেআইনী। কিন্তু আরএফকিউ পদ্ধতিতে প্রতি সেট সিডিউলের মূল্য বাবদ সাড়ে ৫হাজার টাকা নিয়ে ৪হাজার ৮শত টাকার রশিদ প্রদান করেন। আর আনুমানিক ১২০ টি সিডিউল বিক্রি করে টেন্ডার কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী প্রায় ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। যাহা পিপিআর বর্হিভুত ও সাধারণ ঠিকাদারদের সাথে প্রতারণা মূলক হয়রানী। এডিপির ওই টেন্ডার নোটিশে মঠবাড়িয়ার নিবন্ধিত ঠিকাদার ছাড়া অন্য উপজেলার ঠিকাদাররা সিডিউল ক্রয় অথবা ড্রপিং করতে পারবেন না বলে উল্লেখ করা হয়, যা বিধি বর্হিভুত। এমনকি আরএফকিউ পদ্ধতিতে ৬০লাখ টাকার উপরে দরপত্র আহ্বান করা যাবে না। অথচ ৬০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪০টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

আহ্বান করা ওই টেন্ডারের বহু কাজ অন্য তহবিল থেকে সম্পন্ন করে তার টাকা ইতিপূর্বে উত্তোলন করা হয়েছে। আর ওই প্রকল্প এডিপির অর্ন্তভুক্ত করে উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ ও উপজেলা প্রকৌশলী জসিম ওই টাকা আত্মসৎ করার জন্য যাচাই
বাছাই না করে উক্ত খাতে অনুমোদন দেন। এ সময় ওই কাজের ফান্ড ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় এমপি ডাক্তার রুস্তুম আলী ফরাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে গত ৩০ জুন উপজেলা চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ করেন সাধারণ ঠিকাদাররা। এ সময় বক্তারা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ জসীমের অপসারণ দাবী করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ওই টেন্ডার কমিটির কর্মকর্তা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী। তিনি উপজেলা পরিষদের রেজুলেশন করে আরএফকিউ পদ্ধতিতে টেন্ডার
আহবান করেন। ওই টেন্ডারে সিডিউল বিক্রির টাকা সরকারি খাতে জমা দেয়া হয়েছে। তা কারো আত্মসৎ করার সুযোগ নাই। আর কোন প্রকল্প যদি এর আগে করা হয়ে থাকে তার টাকা ফাঁকি দিয়ে তোলার কোন সুযোগ নাই।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সদস্য ও যাচাই বাছাই কমিটির সচিব কাজী আবু সাঈদ জসীমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, সিডিউল বিক্রির ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে একটি টাকাও আমার খরচ করার
সুযোগ নাই। এর আগে ওই প্রকল্পের কাজের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে রেজ্যুলেমন করে আমার কাছে পাঠানো হয়। এর পরে ওই কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া করা হয়। আর সিডিউল বিক্রিতে কোন অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় নি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার (৩০জুন) রাতে মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে উপজেলার ১১ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় এমপি (পিরোজপুর-৩) ডাক্তার রুস্তুম আলী ফরাজীর বিরুদ্ধে ওই টেন্ডারে হস্তক্ষেপ সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ঝাড়ু মিছিল, পথসভা ও সংবাদ সম্মেলন করেন।

ওই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ও ওই টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যানের জড়িত থাকার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার (২জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় সাধারণ ঠিকাদাররা।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫জুন) ওই উপজেলায় এডিপি’র আওতায় ১২ প্যাকেজের প্রায় ৬১ লাখ টাকার একটি টেন্ডার হয়। ওই টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ এনে টেন্ডার বাতিলের দাবীতে স্থানীয় ঠিকাদাররা পরের দিন শুক্রবার (২৬জুন) বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।

এ সময় তারা উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ জসীমের অপসরন দাবী করেন। ওই টেন্ডার কেন বাতিল করা হবে না এ মর্মে স্থানীয় ঠিকাদার মো. লোকমান হোসেন খানের পক্ষে গত ২৯ জুন পিরোজপুর জজ কোর্টের এ্যাডভোকেট নারায়ন চন্দ্র বেপারী ওই টেন্ডারের প্রজেক্ট সিলিকশন কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান, সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য সচীব উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করনে। এর প্রেরিক্ষেতে ওই টেন্ডারের কাজ থমকে যায় ও এর প্রকল্পের টাকা ফেরত যায়।

উল্লেখ্য, পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হিসাবে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ওই উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিনের ছোট ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আশরাফুর রহমান। কিন্তু জাতীয় পার্টি (এরশাদ) আ’লীগের সাথে জোটে থাকায় ওই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় জাতীয় পার্টি (এরশাদ) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ডাক্তার রুস্তুম আলী ফরাজীকে।

এদিকে উপজেলা নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন আশরাফুর রহমান। তখন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন হোসাইন মোশারেফ সাকু। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হন আশরাফের ভাই রিয়াজ উদ্দিন। বিএনপির সমর্থনে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে উপজেলা চেয়ারম্যান হন রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ। অপর দিকে স্থানীয় এমপি রুস্তুম আলী ফরাজী আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশারেফ সাকুকে সমর্থন দেন।

এর পর থেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি’র মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে এমপি’র বিরুদ্ধে ফেসবুকে কটুক্তি, এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে আসামী করে মামলাও হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © deshnews24
Hosted By LOCAL IT